ডেনমার্কে রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন ঢাবি ভিসি নিয়াজ আহমেদ, আরও তিনজনকে নিয়োগের প্রস্তাব

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫

ডেনমার্কে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান। তাকে গ্রহণের বিষয়ে সম্মতি (এগ্রিমো) চেয়ে ইতোমধ্যে কোপেনহেগেনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সরকার। এখন অপেক্ষা কেবল ডেনমার্কের ক্লিয়ারেন্সের। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, তার নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন এবং এগ্রিমো পেতে এক থেকে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

তবে কেবল নিয়াজ আহমেদই নন, অন্তর্বর্তী সরকার আরও তিনজনকে রাষ্ট্রদূত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তারা হলেন প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক দূত লামিয়া মোর্শেদ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ও তার বোন হুসনা সিদ্দিকী। এই ‘অস্বাভাবিক’ নিয়োগের প্রস্তাব ঘিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রস্তাবিতদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও, তাদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা এবং সুবিধাভোগী পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রস্তাবিতরা সবাই এতদিন গাছেরটা খেয়েছেন, এখন তলারটা কুড়াতে নামছেন। তাদের জন্যই পেশাদার কূটনীতিকদের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।”

জানা গেছে, বর্তমানে কোপেনহেগেন ছাড়াও সিঙ্গাপুর, দ্য হেগ, থিম্পু, ইয়াঙ্গুন ও তেহরানে রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার পদ শূন্য রয়েছে বা শিগগির শূন্য হতে যাচ্ছে। যদিও এসব স্থানে নিয়োগ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

লুৎফে সিদ্দিকী ও হুসনা সিদ্দিকীর দ্বৈত নিয়োগে প্রশ্ন
প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ও তার বোন হুসনা সিদ্দিকীকে একসঙ্গে রাষ্ট্রদূত করার প্রস্তাব নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে। সাবেক পুলিশপ্রধান এওয়াইবি আই সিদ্দিকীর সন্তান এই দুই ভাইবোনের পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে। লুৎফে বর্তমানে উপদেষ্টা পদমর্যাদার সব সুবিধা পাচ্ছেন এবং সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রদূত হতে আগ্রহী। অন্যদিকে তার বোন হুসনা, যিনি কেপিএমজি ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক, বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে কর্মরত এবং সেখানেই রাষ্ট্রদূত হতে চান।

লামিয়া মোর্শেদের পছন্দ ইউরোপ
প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও ইউনূস সেন্টারের সাবেক নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোর্শেদ ইউরোপে রাষ্ট্রদূত হতে চান। যদিও ইউরোপে বর্তমানে কোনো শূন্যপদ নেই, তবে কূটনৈতিক মহলের ধারণা—অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তার প্রভাব থাকায় প্রয়োজনে কাউকে সরিয়েও তাকে ইউরোপে পাঠানো হতে পারে।

কূটনৈতিক মহলে বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রদূত পদে প্রস্তাবিত এই নিয়োগগুলো পেশাদার কূটনীতিকদের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি করেছে। তাদের মতে, বৈষম্য দূর করার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল, সেই সরকারেরই এসব নিয়োগ পদক্ষেপ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরে নতুন বৈষম্যের জন্ম দিচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com