সাম্প্রতিক :
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও এসএডিসিএস-এর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎ ও আলোচনা অনুষ্ঠিত পাঁচ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪০ কোটি ডলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প ঢাকার তিন স্থানে আজও অবরোধ কর্মসূচি বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ‘অন-অ্যারাইভাল ভিসা’ বন্ধ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ নাহিদের অফিস নয়, গুলিবর্ষণ হয়েছে আবাসন কোম্পানির কার্যালয়ে: পুলিশ লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার না হ‌ওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট কাল রাজধানীর তিন স্থানে অবরোধের ঘোষণা দিয়ে সায়েন্স ল্যাব ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের বিচার সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত কোনোটিই হয়নি: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের রায়কে “সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত নয়” বলে অভিহিত করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গতকাল এই রায় ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে সংগঠনটি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।

অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস কালামার্ড বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভ চলাকালে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার জন্য যারা প্রকৃতভাবে দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসারে বিচার নিশ্চিত করা উচিত। কিন্তু শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচার সুষ্ঠু হয়নি এবং রায়ও ন্যায়সংগত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে স্বচ্ছ বিচারব্যবস্থা প্রয়োজন। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তোলে। এটি সবচেয়ে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অপমানজনক শাস্তি—যার কোনো স্থান আধুনিক বিচার ব্যবস্থায় নেই।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে বিক্ষোভে ১ হাজার ৪০০–এর বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার আহত হন। নিহত ও আহতদের পরিবারের ন্যায়বিচারের জন্য যে ধরনের আন্তরিক ও নিরপেক্ষ বিচারপ্রক্রিয়া প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করা হয়নি বলে অভিযোগ সংস্থাটির। আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের স্বাধীনতার ঘাটতি, দ্রুতগতিতে বিচারের কার্যক্রম পরিচালনা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ যাচাইয়ের সুযোগ সীমিত করার মতো বিষয়গুলো ন্যায়বিচার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আসামিদের অনুপস্থিতিতে অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে। আদালত নিযুক্ত আইনজীবী শেখ হাসিনাকে প্রতিনিধিত্ব করলেও প্রস্তুতির জন্য তাঁর যথেষ্ট সময় ছিল না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব প্রমাণকে বিতর্কিত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, সেগুলোর জেরা করার সুযোগও দেওয়া হয়নি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, জুলাইয়ের ভুক্তভোগীরা আরও ন্যায়সংগত বিচার প্রাপ্য। বাংলাদেশে এমন একটি বিচারব্যবস্থা প্রয়োজন যা সম্পূর্ণ পক্ষপাতহীন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত এবং মানবাধিকারের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করবে—মৃত্যুদণ্ডের মতো অমানবিক শাস্তি আরোপ না করেই।

বিবৃতির শেষে সংস্থাটি পুনর্ব্যক্ত করে যে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কোনো পরিস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করে না—অপরাধের ধরন, ব্যক্তির দোষ–নির্দোষ কিংবা ফাঁসি কার্যকরের পদ্ধতি কোনোটিই এই অবস্থানের ব্যতিক্রম নয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com