সাম্প্রতিক :
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও এসএডিসিএস-এর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎ ও আলোচনা অনুষ্ঠিত পাঁচ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪০ কোটি ডলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প ঢাকার তিন স্থানে আজও অবরোধ কর্মসূচি বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ‘অন-অ্যারাইভাল ভিসা’ বন্ধ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ নাহিদের অফিস নয়, গুলিবর্ষণ হয়েছে আবাসন কোম্পানির কার্যালয়ে: পুলিশ লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার না হ‌ওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট কাল রাজধানীর তিন স্থানে অবরোধের ঘোষণা দিয়ে সায়েন্স ল্যাব ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

শিল্প-কারখানায় ব্যাপক চাঁদাবাজি প্রতিকার পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫

রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গার্মেন্টস মালিক, পরিবহন ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত এই চক্রের চাপে দিশেহারা। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয়ধারী স্থানীয় মাস্তানরা নিয়মিত চাঁদা দাবি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেকেই নিরাপত্তা ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বাধ্য হয়ে চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন, আর অভিযোগ করেও পাচ্ছেন না সুরাহা।

মিরপুর ১২ নম্বর এলাকার একটি পোশাক কারখানার মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাকে প্রতি মাসে চার লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। কাজ কম থাকলেও চাঁদা দিতে হয় নির্ধারিত সময়েই। দেরি হলে কারখানার নিচে মহড়া, প্রাণনাশের হুমকি এবং কাজে বাধা সৃষ্টি করা হয়। চাঁদাবাজদের প্রভাব এতটাই যে, কারখানার গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদেও তাদের পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

রাজধানী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভার এলাকার শিল্পাঞ্চলজুড়ে একই চিত্র। বিভিন্ন কারখানায় প্রতি মাসে এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানান। পল্লবীর কালশী রোডের এক গার্মেন্টস মালিক বলেন, সরকার বদলালেও চাঁদাবাজির পরিমাণ কমেনি—শুধু চাঁদাবাজ পরিবর্তন হয়েছে। বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী মামুন ও তার সহযোগীরাও নাকি নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে।

গার্মেন্টস পণ্য পরিবহন খাতও একইভাবে আক্রান্ত। বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানি থেকেও লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। চাঁদা না দিলে রাস্তায় হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও হত্যার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়।

সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলে চাঁদাবাজির মাত্রা আরও ব্যাপক। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কারখানার মালিকরা জানান, রাস্তাঘাট, বাজার, ফুটপাত, ডিশ-ইন্টারনেট সংযোগ এমনকি বাসাবাড়ির বর্জ্য অপসারণের ক্ষেত্রেও চাঁদা দিতে হয়। অনেককে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি, মারধর ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। সাভারের হেমায়েতপুরে এক ব্যবসায়ীকে চাঁদার জন্য তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে সম্প্রতি।

এক গার্মেন্টস মালিক জানান, চাঁদাবাজরা কারখানার ‘ঝুট’ ব্যবসাও নিয়ন্ত্রণ করছে। বাজারদরের অর্ধেকে ঝুট বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়, না দিলে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি আসে।

এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা পুলিশের কাছে গেলেও অভিযোগের যথাযথ প্রতিকার মিলছে না বলে অভিযোগ। তবে আশুলিয়া থানার ওসি আব্দুল হান্নান বলেন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে যৌথ বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জেও একই অভিযোগ। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কারখানা থেকে বাসস্ট্যান্ড—সবখানেই চাঁদাবাজি চলছে। পুলিশকে জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা পাচ্ছেন না তারা। ফলে শিল্পাঞ্চলগুলোতে আতঙ্ক আরও বাড়ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com