জাপানের সাথে আমার সম্পৃক্ততা ৩ দশকের বেশী, দুই জেনারেশনের। টোকিওতে বেশ কিছু সাংবাদিক আছেন যাঁদের গঠনমূলক সংবাদে আমরা উপকৃত হই, সমৃদ্ধ হই উনাদের প্রায় অনেকের সাথে জানাশুনা। ফেসবুকে তথ্য প্রবাহের যুগের সাথে আয় রোজকার আর প্রোপাগান্ডা যোগ হওয়াতে ফেক নিউজের জয়জয়কার, হারিয়ে গেছে সংবাদের বস্তুনিষ্ঠটা।
ইদানিং ফেসবুকে অসংখ্য জাপান বিশেষজ্ঞদের ইচ্ছাকৃত বিকৃত সংবাদের ভিড়ে খেই হারিয়ে ফেলি কোনটি ঠিক আর বেঠিক। এদের আবার একই মানের বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী যারা ডিস আর মিস ইনফরমেশনের বলয়ে থাকতে পছন্দ করেন।
নতুন মহিলা প্রধানমন্ত্রী আসার পর জাপান থেকে বাংলাদেশীদের ফেসবুকে বিস্ময়কর সব সংবাদের প্রতিযোগিতা। আমরা জানি অসংখ্য বাংলাদেশি আছেন যারা কোনকিছু একবার ধরলে না পচে গন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ছাড়েন না। শুধুমাত্র এই যোগ্যতার কারণে দেশে দেশে ভিসা বিপর্যয়।
জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি বিদেশি বান্ধব নয়। এই অবস্থায় সবার আগ্রহ নীতি বিষয়ে সঠিক তথ্য জানার। একমুঠো সত্যের সাথে এক বালতিবমিথ্যা মিশিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আজকাল জাপান নিয়ে ভয়ংকর প্রচারণা আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে জাপানে যারা আসেন তাঁদের এতোটা মানহীনতা বিস্ময়কর।
‘বাঙ্গুরাদেশ জীন’ নামের একটি ফেসবুক আইডি দেখলাম জাপান সংসদের বরাত নিয়ে বলছে মুসলিমদের লাশ দাফন নয়, দাহ করা প্রস্তাবনা বিষয়ে নিয়ে হাইলাইট পোস্ট। দেখলে মনে হবে জাপানে শুধু বাংলাদেশি মুসলিম আছে আর নতুন প্রধানমন্ত্রী শুধু বাংলাদেশি মুসলিমদের চিনে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া আর মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানদের চেনে না।
মুসলিমদের দাহ করার বিষয়টি গুরুতর বিষয়, জাপানের মত দেশ তাঁর পররাষ্ট্র নীতি, ব্যবসা বানিজ্য, মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতা সব বাদ দিয়ে মৃত বাংলাদেশি মুসলিমদের দেশে পাঠাবে নতুবা দাহ করবে এরকম বিষয়ে গসিপিং করার সময় একবারও ভাবলো না এটি জাপানের মত দেশে সম্ভব নয়।
মৃত ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতায় জাপানকে যারা এতোটা অসংবেদনশীল ভাবেন তাঁদের জাপান ছেড়ে চলে আসা উচিত।
ফেসবুকে জাপান নিয়ে বাংলাদেশিদের ভয়ংকর তথ্য প্রবাহে দিনশেষে ক্ষতি হবে বাংলাদেশিদের, মিস আর ডিসইনফরমড।
জাপানের এয়ারপোর্টগুলোতে নেপালি এমনকি আফ্রিকান ফিটফাট অনেক কর্মী দেখা যায়। শুধু এয়ারপোর্ট নয় বিভিন্ন সার্ভিসে বিদেশীদের এমন উপস্থিতিতে বিপুল জনসংখ্যা নিয়ে বাংলাদেশের উপস্থিতি খুব নগন্য। পেশাগত কাজে এই বছর চারবার জাপান যেতে হয়েছে, নারিতায় কিং হানেদায় প্লেনে উঠার সিকিউরিটি জোনে এশিয়া আর আফ্রিকার সুশিক্ষিত,মার্জিত কর্মীদের মাঝে বাংলাদেশি খুঁজেছি, পাইনি। বড় শহরগুলোতে নির্মাণ কাজে কিছু বাংলাদেশি দেখেছি।
স্বভাবের পরিবর্তন না হলে নিজেদের যোগ্য করার চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে কলহ নিয়েই থাকতে হবে বাংলাদেশীদের।