সাম্প্রতিক :
ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি বসাতে বরাদ্দ ৭২ কোটি টাকা পদ্মা সেতুতে টোল আদায়ে নতুন মাইলফলক, ছাড়ালো ৩ হাজার কোটি টাকা শূন্য হাতে আরও ৩৬ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র ঢাকায় দুই বছর পরপর ভাড়া বাড়ানোর নির্দেশিকা ডিএনসিসির আসিফ মাহমুদের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম যেতে চান থাইল্যান্ড, মেলেনি অনুমতি ৩১শে জানুয়ারির মধ্যে বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ অন্তর্বর্তী সরকারের রাকসু জিএস আম্মারের মানসিক চিকিৎসার দাবিতে ছাত্রদলের কর্মসূচি ক্রাউড ফান্ডিং করে নির্বাচনের অর্থ সংগ্রহ করবে এনসিপি তুমুল বিতর্কে পর পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন আনছে ইসি সাভারে পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার থেকে ২ মরদেহ উদ্ধার

মার্চের আগ পর্যন্ত বই পাবে না মাধ্যমিকের ৭০ লাখ শিক্ষার্থী

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫

বিগত কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো পাঠ্যবই পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে কয়েকটি জেলায় এপ্রিল পর্যন্ত বই বিতরণ না হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য তুলনামূলকভাবে আগেই পাঠ্যবই মুদ্রণের দরপত্র আহ্বান করা হলেও বাস্তবে আবারও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের দরপত্র বাতিল ও পুনঃদরপত্রের কারণে প্রায় তিন মাস দেরিতে মুদ্রণকাজ শুরু হয়। অন্যদিকে কোনো রিটেন্ডার ছাড়াই অজ্ঞাত কারণে নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের কার্যাদেশ প্রায় আড়াই মাস আটকে রাখা হয়েছিল। ফলে বই ছাপা ও বিতরণ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়সূচি থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানায়, মাধ্যমিক স্তরের মোট ২১ কোটি পাঠ্যবইয়ের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত মাত্র ৫ কোটি বই উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১ জানুয়ারির মধ্যে বই বিতরণ তো দূরের কথা, মার্চের আগেও প্রায় ৭০ লাখ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ছাপাখানার মালিকরা অভিযোগ করছেন, বই ছাপায় দেরির পেছনে এনসিটিবির কাগজ সিন্ডিকেট বাণিজ্য বড় কারণ। দেশে শতাধিক কাগজ মিল থাকলেও এনসিটিবি মাত্র পাঁচটি মিলের কাগজ ব্যবহারের অনুমোদন দিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এনসিটিবির একটি প্রভাবশালী মহল কাগজের প্রতি টনে প্রায় ৭ হাজার টাকা কমিশন নিচ্ছে। বছরে প্রায় ১ লাখ টন কাগজ প্রয়োজন হওয়ায় এই সিন্ডিকেট থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

গত এক যুগ ধরে পাঠ্যবই ছাপার মৌসুমে কাগজের দাম বাড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। এবার টনপ্রতি কাগজের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। ছাপাখানার মালিকদের দাবি, বর্তমানে কাগজের দাম টনপ্রতি ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা, অথচ সিন্ডিকেট বন্ধ হলে এই দাম ১ লাখ টাকায় নেমে আসতে পারে। কাগজ সংকটের পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুদ্রণ শ্রমিক সংকট এবং গাইড বই ছাপার মৌসুম শুরু হওয়ায় বাইন্ডার সংকটও কাজকে আরও ধীর করে দিচ্ছে।

সরকার চলতি বছর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বই ছাপা শেষ করে উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতিবছরের মতো এবারও পাঠ্যবই ছাপা ও বিতরণে এনসিটিবির দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, দেরিতে বই হাতে পাওয়ায় পাঠদান শুরু হয় বিলম্বে, অথচ পরীক্ষার সূচি অপরিবর্তিত থাকায় শিক্ষার্থীরা শিখন ঘাটতি নিয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে উঠে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি শিক্ষার মানের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে পাঠ্যবই ছাপার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এনসিটিবিতে পূর্ণকালীন চেয়ারম্যান না থাকাও সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী এনসিটিবির চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি তিনি ছাপাখানা মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে অন্তত জানুয়ারির ১ তারিখে যেন প্রতিটি শিক্ষার্থী একটি বই পায়, সে নির্দেশনা দেন। তবে মাঠপর্যায়ে সেই নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না।

অভিযোগ রয়েছে, এনসিটিবির একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে বই ছাপায় গড়িমসি করছে। কারণ পাঠ্যবই যত দেরিতে ছাপা হবে, গাইড বইয়ের ব্যবসা তত লাভবান হবে। এমনকি সম্প্রতি এনসিটিবির কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে গাইড বই ব্যবসায়ীদের বৈঠকের খবরও পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই অনিয়ম ও ষড়যন্ত্রের ফলে একদিকে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে, অন্যদিকে মার্চের আগ পর্যন্ত বই না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে লাখো শিক্ষার্থী।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষে মোট প্রায় ৩০ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই ছাপা শেষ হলেও মাধ্যমিক স্তরের ২১ কোটির বেশি বই এখনো ঝুলে আছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ছাপার অগ্রগতি ৫০ শতাংশ হলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, বাস্তবে এই হার ২৫ শতাংশের একটু বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঠ্যবই ছাপা ও বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, সময়ানুবর্তিতা এবং শক্ত নজরদারি না থাকলে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দূর করা সম্ভব হবে না।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com