নির্বাচনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক উন্নয়নের আশা ভারতের

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঝটিকা সফরে বাংলাদেশে এসে ফেরার পর দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) চেন্নাইয়ে আইআইটি মাদ্রাজ টেকনো-এন্টারটেইনমেন্ট ফেস্ট ‘শাস্ত্র ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে কথা বলেন। জয়শঙ্কর জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে তিনি ঢাকা সফর করেছিলেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে ভারত বাংলাদেশের জনগণকে শুভকামনা জানিয়েছে। নির্বাচনের পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে এই অঞ্চলে সুপ্রতিবেশীসুলভ চেতনা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর স্থিতিশীলতায় বিশ্বাস করে। ভারতের প্রতিবেশী সম্পর্কের মধ্যে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় অভিজ্ঞতাই রয়েছে। তবে অধিকাংশ প্রতিবেশী দেশ মনে করে, ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি হলে তারাও লাভবান হবে। ভারতের উন্নয়ন প্রতিবেশী দেশগুলোর উন্নয়নের পথও সুগম করে।

তিনি আরও বলেন, ভারতের বিদেশনীতি ‘বিশ্ব একটি পরিবার’—এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। শক্তিশালী অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের দৃষ্টিভঙ্গিই ভারত অনুসরণ করে এবং বাংলাদেশ সফরেও এই বার্তাই তিনি তুলে ধরেছেন।

প্রতিবেশীসুলভ আচরণের ব্যাখ্যায় জয়শঙ্কর বলেন, সাধারণত প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হয়। বিপদের সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া, বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ রাখা—এগুলোই সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের মূল দিক। দেশ হিসেবেও ভারত প্রতিবেশীদের সঙ্গে এমন সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।

প্রতিবেশী দেশগুলোকে সহায়তার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় অধিকাংশ প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকেই প্রথম টিকা পেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট খাদ্য, সার ও জ্বালানি সংকটের সময়ও ভারত সাধ্যমতো সহায়তা করেছে। শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটে দেশটিকে ৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং সাম্প্রতিক ‘দ্বিতয়া’ ঘূর্ণিঝড়ের সময়ও শ্রীলঙ্কায় প্রথম সহায়তা পাঠিয়েছে ভারত।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিপদের সময় ভারতকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাওয়া যায়।

ভাষণে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করলেও জয়শঙ্কর বলেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারত কীভাবে আত্মরক্ষার স্বার্থে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করবে, সে সিদ্ধান্ত ভারত নিজেই নেবে। ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ পারস্পরিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা। হিংসা ও সহযোগিতা একসঙ্গে চলতে পারে না, যার ফলে কিছু ক্ষেত্রে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com