সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—উড়ন্ত আশিক নামে পরিচিত চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন কি সত্যিই শুধুই বিনিয়োগ উন্নয়নের দায়িত্ব পালন করছেন, নাকি তিনি মূলত মুহাম্মদ ইউনূস–এর ভাবমূর্তি প্রচারের কাজ করছেন। সমালোচকদের একাংশের দাবি, তিনি সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে এমনভাবে সক্রিয় যে তা অনেক সময় ইউনূসের সামাজিক ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলোর প্রচারণার মতো মনে হয়।
২০২৪ সালের ২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের মেমফিসে প্রায় ৪১ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে বাংলাদেশের পতাকা হাতে স্কাইডাইভ করে আলোচনায় আসেন আশিক মাহমুদ। এই কৃতিত্বের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পান। পরে তাকে দেশের বিনিয়োগ আকৃষ্টের দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন প্রচারমূলক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এসব প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের তুলনায় বাস্তবে বিদেশি বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এখনো দৃশ্যমান নয়। সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অর্থবছরে নতুন বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ কমেছে এবং বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের সংখ্যাও নিম্নমুখী। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—প্রচারণা বেশি হলেও বাস্তব বিনিয়োগ কতটা এসেছে।
অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, বিনিয়োগ আকর্ষণ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যাংকিং খাতের অবস্থা ও অবকাঠামোগত সমস্যার মতো অনেক বিষয় এতে প্রভাব ফেলে। তাই কেবল একজন কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড দিয়ে পুরো বিনিয়োগ পরিস্থিতি বিচার করা ঠিক নয়।
সব মিলিয়ে “উড়ন্ত আশিক কি ইউনূসের মার্কেটিং ম্যানেজার”—এই প্রশ্নটি মূলত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবেই সামনে এসেছে। এ বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও সরকারি নীতিনির্ধারণ নিয়ে আলোচনাই এখন মূল বিষয় হয়ে উঠেছে।