তেলের সরবরাহ বাড়ালো বিপিসি, রেশনিং ব্যবস্থা শিথিল

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের জ্বালানি বাজারে যে সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা মোকাবিলায় ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। দীর্ঘমেয়াদি সংকটের আশঙ্কায় চালু করা কৃচ্ছ্রসাধন ও রেশনিং ব্যবস্থায় কিছুটা শিথিলতা আনার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বিপিসি জানিয়েছে, এখন থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ আগের তুলনায় বাড়ানো হবে। এর ফলে পাম্পগুলোতে তেল পাওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তি কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে গত রোববার সরকারি নির্দেশে সারাদেশে জ্বালানি তেলের ওপর বিশেষ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। তখন বিপণনকারী কোম্পানিগুলো পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের বরাদ্দ ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি, চাহিদা এবং মজুত বিশ্লেষণ করে বিপিসি সেই বরাদ্দ হ্রাসের হার কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।

অর্থাৎ এখন থেকে পাম্পগুলোতে আগের ২৫ শতাংশের পরিবর্তে মাত্র ১৫ শতাংশ কম বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। ফলে বাস্তবে পাম্পগুলোতে আগের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি তেল পাওয়া যাবে, যা গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিপিসি জানিয়েছে, চলমান বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী বিভাগীয় শহরগুলোতে অকটেন ও পেট্রোলের দৈনিক গড় বিক্রয়ের ভিত্তিতে নতুন বরাদ্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। বিপিসির অধীন বিপণন কোম্পানিগুলোর ডিপো সুপারভাইজার ও বিক্রয় কর্মকর্তাদের দ্রুত এই নতুন তালিকা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যাতে আকস্মিক জ্বালানি সংকট বা সরবরাহ শূন্যতার মুখে না পড়ে, সেজন্যই গত রোববার থেকে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।

গত কয়েক দিনে ২৫ শতাংশ সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও বাগবিতণ্ডার খবর পাওয়া যায়। নতুন সিদ্ধান্তে সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় পরিবহন খাতসহ সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যদি আরও উত্তপ্ত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আবারও কঠোর রেশনিং ব্যবস্থায় ফিরতে হতে পারে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com