রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্যাংশন ওয়েভার’ চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শ অনুযায়ী রাশিয়াকে চিঠিও পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী জানান, দুই মাসের জন্য বা ৬ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির লক্ষ্যে এই স্যাংশন ওয়েভার চাওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারত থেকে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ২২ হাজার মেট্রিক টন পাওয়া গেছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকেও তেল আমদানির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সরকারের দাবি, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মার্চ মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা নেই। বাজারে যে কৃত্রিম সংকটের কথা বলা হচ্ছে, তার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মনির হোসেন চৌধুরী জানান, সারাদেশে অবৈধভাবে মজুত করা ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন তেল উদ্ধার করা হয়েছে। জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে ফুয়েল কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে অকটেন ও পেট্রলচালিত যানবাহনের জন্য এই কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন। এছাড়া ৩০ মার্চ ও ৩ এপ্রিল দুটি কার্গো থেকে আরও ৫৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ডিজেল দেশে আসবে। সব মিলিয়ে এপ্রিল মাসে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল যুক্ত হবে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ৬৩ শতাংশই ডিজেল দ্বারা পূরণ হয় এবং বর্তমানে এর কোনো ঘাটতি নেই। অকটেন নিয়ে যে সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে, তা মূলত মনস্তাত্ত্বিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।