হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব জাপানি কনসোর্টিয়ামকে দেওয়ার বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। তবে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনাগুলো এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
শুক্রবার জাপানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বিষয়—যেমন রাজস্ব ভাগাভাগি, এমবার্কেশন ফি (উড্ডয়ন ফি) এবং অগ্রিম অর্থ প্রদান—নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চলছে এবং পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছানোর পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই বারবার আলোচনার টেবিলে বসা হচ্ছে এবং দ্রুত টার্মিনালটি চালু করার লক্ষ্য রয়েছে।
বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জাপানি পক্ষকে বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো পুনর্বিবেচনা করে সংশোধিত রূপরেখা জমা দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক বিদেশি এয়ারলাইন বাংলাদেশে তাদের সেবা শুরু করতে পারেনি। তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে এ বিষয়ে নতুন গতি এসেছে।
জানা গেছে, দুপক্ষের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হলে আগামী তিন মাসের মধ্যে চুক্তি সই হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চলতি বছরের শেষভাগে অথবা ২০২৭ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে টার্মিনালটি উদ্বোধন সম্ভব হতে পারে। এ বিষয়ে আগামী সোমবার পুনরায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
শুক্রবারের বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জাপানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিয়েকো।
উল্লেখ্য, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালটির আয়তন প্রায় ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার। এটি বছরে অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী এবং প্রায় ৯ লাখ টন কার্গো পরিবহনে সক্ষম।