পোশাক খাতে উৎপাদন ৫০% কমেছে

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিকল্প উৎস থেকে সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং স্বল্পমেয়াদি কৌশল গ্রহণের পাশাপাশি নতুন গ্যাস কূপ অনুসন্ধান জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশে এর প্রভাব এবং মোকাবেলায় কর্মপন্থা নির্ধারণ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। সভার আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। এতে উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভায় সূচনা বক্তব্যে তাসকীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ তার মোট জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানি করে, যার বড় অংশই আসে হরমুজ প্রণালি হয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ডলার সংকট দেশের জ্বালানি খাতকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের মজুত কমে যাওয়ায় দ্রুত আমদানি না করলে পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সিমেন্ট উৎপাদন ব্যয় প্রতি ব্যাগে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে এবং প্রতি কনটেইনারে ৫০০ থেকে ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুর রহমান বলেন, কৃষিখাতে চাহিদা মেটাতে আগামী জুন পর্যন্ত ছয় লাখ টন সার মজুত প্রয়োজন। তবে গ্যাস সংকট অব্যাহত থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে চার লাখ টন ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন-এর প্রশাসক আব্দুর রহিম খান বলেন, জ্বালানি সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে শুল্ক কমানো এবং আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ জরুরি।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-এর সদস্য মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে নীতিগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

এদিকে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ জানান, সৌরবিদ্যুৎ খাতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিতে ২৭ থেকে ৩০ শতাংশ শুল্ক থাকায় এ খাতের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, ইউরোপের দেশগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের হার বেশি হওয়ায় তারা তুলনামূলকভাবে কম সংকটে পড়েছে। তাই বাংলাদেশেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com