২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫সালের মার্চ মাসের মাত্র ১ বছরে ১০,৫০৫টি কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেছে জাপানে।

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫সালের মার্চ মাসের মাত্র ১ বছরে ১০,৫০৫টি কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেছে জাপানে।

এটা কোনো ছোটখাটো সংখ্যা না। মানে প্রতিদিন গড়ে ২৮টি কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রতি ঘণ্টায় একটারও বেশি।
কিন্তু প্রশ্ন হলো জাপানের মত দেশে দেউলিয়া হবে কেন?

সহজ ভাষায় বললে,জাপানে এখন সবকিছুর দাম বেড়েছে। তেল, গ্যাস, কাঁচামাল কিছুই আর আগের মত সস্তা নেই। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ছোট কোম্পানিগুলোর উপর।
শুধু মূল্যবৃদ্ধির কারণেই দেউলিয়া হয়েছে ৮০১টি কোম্পানি যেটা তাএ আগের বছরের তুলনায় ১৩.৯% বেশি।

উৎপাদন খরচ বাড়ছে। কিন্তু ক্রেতারা বেশি দামে কিনতে রাজি না। ফলে লোকসান একটু একটু করে জমছে। আর একসময় কোম্পানি আর টিকতে পারছে না।

দ্বিতীয় প্রধান কারন হইতাছে পর্যাপ্ত কর্মী নেই।
জাপানের জন্মহার বিশ্বের সবচেয়ে কম দেশগুলোর একটি। তরুণ প্রজন্ম কমে যাচ্ছে দিনে দিনে।
ফলে কারখানায়, রেস্তোরাঁয়, নির্মাণে কোথাও কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না।শ্রমিক সংকটের কারণে দেউলিয়া হয়েছে ৪৪২টি কোম্পানি।
এর মধ্যে বেতন বাড়িয়েও কর্মী ধরে রাখতে পারেনি ১৯৫টি
আর কর্মীই খুঁজে পায়নি ১৩৯টি।বুঝতে পারতেছেন নিশ্চয়ই জাপানে কি পরিমাণ শ্রমিক সংকট প্রবল হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন জাগে কোন ধরনের কোম্পানি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?

উত্তর হচ্ছে -মোট দেউলিয়া কোম্পানির ৯০% ছিল ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান.।যাদের কর্মী সংখ্যা মাত্র ১০ জনের কম।
এখন আবার প্রশ্ন জাগতে পারে যেই কোম্পানিগুলো দেউলিয়া হয়েছে তাদের কোম্পানিগুলো কি ধরনের সেবা বা সার্ভিস দিতো।

তালিকার প্রথমেই আসে সেবা খাত। এই খাতে ৩,৫৮৫টি (+৫.৫%) {রেস্তোরাঁ, হোটেল, ছোট দোকান }
এরাই সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছে।

এরপর আসে নির্মাণ খাত বা কন্সট্রাকশনের কোম্পানি।এরকম ২,০৪৭টি কন্সট্রাকশনের কোম্পানি দেউলিয়া হয়েছে।শ্রমিক নেই, উপকরণের দাম বেশি। দুই দিক থেকে চাপ।মোট ১০টি শিল্প খাতের মধ্যে ৫টিতেই বেড়েছে দেউলিয়াত্ব।

এখন একটু এলাকাভিত্তিক চিত্র আলোচনা করি।

জাপানের ৯টি অঞ্চলের মধ্যে ৭টিতেই পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে।
শুধু উত্তর-পূর্বের তোহোকু আর পশ্চিমের চুগোকু অঞ্চলে সামান্য কমেছে।বাকি সব জায়গায় বাড়ছেই।

শুধু মার্চ মাসেই দেউলিয়া হয়েছে ৯২৪টি কোম্পানি।
আগের বছরের মার্চের তুলনায় ৮.৩% বেশি।মানে দেউলিয়া হুহু করে বাড়তেছে।এই বাড়া থামার কোনো লক্ষণ নেই।

এই কোম্পানির ঋণের পরিমাণ কত জানেন?

এই ১০,৫০৫টি কোম্পানির মোট ঋণ ছিল ১.৫৭ ট্রিলিয়ন ইয়েন।বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।(বইসা বইসা এইসব আগডুম বাগডুম হিসেব করছি আরকি😁)।যাতে সহজে বুঝতে পারেন।

তাহলে সামনে কী হতে চলেছে?

Tokyo Shoko Research-এর বিশ্লেষকরা সরাসরি বলছেন , “যেসব কোম্পানির পুঁজি নেই, তারা বাজার থেকে হারিয়ে যাবে।”
এখন তো আবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চলছে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধা আছে। তেলের দাম যেকোনো সময় আবার লাফ দিতে পারে।

সেটা হলে ,যারা এখনও辛うじて (খারোওজিতে) টিকে আছে, তারাও টিকবে না।
জাপানের জন্য সামনের বছরটা আরও কঠিন হতে পারে।​​​​​​​​​​​​​​​​

তাহলে বাংলাদেশের অনেকের ই ধারণা এইবার তাহলে জাপান বাংলাদেশ থেকে লোক না নিয়া কই যাবে?
উত্তর হচ্ছে জাপানের সব কোম্পানি ও যদি দেউলিয়া হয় তারপরেও তারা কোয়ালিটি তে ছাড় দিবেনা।আর লোক নেয়ার জন্য ভিয়েতনাম,ইন্দোনেশিয়া,নেপাল ,মিয়ানমার ,ফিলিপাইন আছে।যারা সত্যিকার অর্থেই অনেক বিশ্বস্ত জাপানিদের কাছে।তাদের চাহিদা ওরা ই পূরন করে।জাপানিদের রিকোয়েরমেন্ট মানে। তাই জাপান সরকারের বাংলাদেশ থেকে লোক নিতেই হবে কোম্পানি টিকিয়ে রাখতে এই চিন্তা থেকে বের হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।আর যদি আসতেই চান তাহলে নিজেকে প্রিপেয়ারড করুন।কোনো রকম N5 পাশ করে “আমারে জাপান সরকার না নিয়া যাইবো কই”টাইপের কথা বাদ দিন।

জাপান জান দিবে তারপরেও তার গুনগত মানে ছাড় দিবেনা।এটা ফাকিঁবাজ বাংগালীরা যত দ্রুত বুঝবে ততই জাপানের মার্কেট বাংলাদেশিদের জন্য ধরা সহজ হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com