জাপানের রাজধানী টোকিও ও আশপাশের এলাকায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ছয় মাসের বেশি সময় ধরে গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এক নগর দুর্যোগ প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ। সেনশু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাতো কেইইচি এ বিষয়ে গবেষণাভিত্তিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন।
তিনি রাজধানীর নিচে সম্ভাব্য একটি মহাভূমিকম্পের প্রেক্ষাপটে গত বছর জাপান সরকারের প্রকাশিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য ব্যবহার করে এই হিসাব নির্ধারণ করেন। তার বিশ্লেষণে দেখা যায়, টোকিও এবং পার্শ্ববর্তী কানাগাওয়া, সাইতামা ও চিবা জেলায় প্রায় ৪৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে।
এই বিপুল সংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ দুর্যোগের ছয় মাস পরেও নতুন বাসস্থান খুঁজে পেতে ব্যর্থ হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শহরাঞ্চলে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জমির অভাব রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এছাড়া বাণিজ্যিক ভাড়ার বাসস্থানের সীমিত সক্ষমতা, নির্মাণ ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং শ্রমিক সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন মেরামতে বিলম্ব হতে পারে, ফলে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিবেদনে ভবনগুলোর ভূমিকম্প ও অগ্নি প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি দোতলা অস্থায়ী আবাসন চালু করা এবং বিস্তৃত এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ অন্য পৌরসভায় স্থানান্তরিত হয়ে আশ্রয় নিতে পারেন।
অধ্যাপক সাতো কেইইচি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ না করলে বিপুলসংখ্যক মানুষ দীর্ঘমেয়াদে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। তিনি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বিলম্ব হলে ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।