স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইপিআই (Expanded Programme on Immunization) কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার এ কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পুনরুজ্জীবিত করছে।
বুধবার রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ ইউনিসেফ ও গ্যাভি-এর সহায়তায় আনা হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা ও ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন (ওপিভি) গ্রহণ শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, ১৯৭৯ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশু ও নারীদের ১২টি প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এটি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী একটি সফল কর্মসূচি হিসেবে স্বীকৃত এবং গ্যাভি বাংলাদেশকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফের যৌথ গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ইপিআই কর্মসূচি প্রতি বছর প্রায় এক লাখ শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করে এবং প্রায় ৫০ লাখ রোগ সংক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম হয়।
তিনি আরও জানান, পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তা বাতিল করে ইউনিসেফের মাধ্যমে দ্রুত ভ্যাকসিন সংগ্রহের ব্যবস্থা করে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় দেয়।
বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ চালু রয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৫ মে পর্যন্ত ১ কোটি ৬৮ লাখ ২১ হাজার ৬০৫ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যের ৯৩ শতাংশ কভারেজ।
মন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে ইউনিসেফকে ৮৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়েছে, যার মাধ্যমে ১০ ধরনের ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হচ্ছে। ৩ মে প্রথম চালানে ১৫ লাখের বেশি আইপিভি ভ্যাকসিন দেশে আসে। ৬ মে আরও ১৫ লাখ ডোজ এমআর ও টিডি ভ্যাকসিন পৌঁছেছে। আগামী ১০ মে’র মধ্যে আরও প্রায় ১.৮ কোটি ডোজ বিভিন্ন ভ্যাকসিন দেশে আসার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৫ মাসের ভ্যাকসিন সংগ্রহ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিন মাসের বাফার স্টক রাখা হবে। বর্তমানে দেশে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের দুই বছরের মজুত রয়েছে এবং নতুন সরবরাহের ফলে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস অন্যান্য ভ্যাকসিনেও কোনো ঘাটতি থাকবে না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ভ্যাকসিন সংরক্ষণে বিশ্বমানের কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় ইউনিসেফ কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে, যার মধ্যে মাইক্রোপ্ল্যানিং, প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রিয়েল-টাইম রিপোর্টিং অন্তর্ভুক্ত।