বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানা চতুর্থবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ৷ সব ঠিক থাকলে নিজের রেকর্ড ভেঙে টানা চতুর্থবার ও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পঞ্চমবারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা৷
৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন৷ ২৯৯টি আসনে অনুষ্ঠিত হয় ভোট৷ নওগাঁ-২ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন৷ রোববার সকাল ৮ থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ৷ শেষ হয় বিকাল ৪টায়৷ কেন্দ্রগুলোতে দেখা যায়নি ভোটারদের দীর্ঘ লাইন৷ কয়েকটি আসনে বিচ্ছিন্ন সহিংসতা ও সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে শেষ হয় নির্বাচন৷
বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ভোট গণনার পর নির্বাচন কমিশন বেসরকারিভাবে ২২৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেছে৷ দেখা গেছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ পেয়েছে ১৬৭টি আসন৷ ফলে, এবারও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি৷
আর আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল জাতীয় পার্টি পেয়েছে ১০টি আসন৷ তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের হার এবার বেশি৷ তারা এখনো পর্যন্ত ৪৯টি আসনে জয় পেয়েছেন৷ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী৷
এই নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে আবারও বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে৷ নৌকা মার্কায় তিনি মোট ভোট পেয়েছেন দুই লাখ ৪৯ হাজার ৯৬২টি৷ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এম নিজামউদ্দিন লস্কর৷ তিনি পেয়েছেন ৪৬৯ ভোট৷
সংসদের তিনশটি আসনের মধ্যে এককভাবে ১৫১টি আসন পেলে সরকার গঠন করতে পারে একটি রাজনৈতিক দল৷ এর চেয়ে কম আসন পেলে অন্য দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে হয়৷ কিন্তু আওয়ামী লীগ আবারও দুই তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ায় সেসব নিয়ে আরো কোনো জল্পনার অবকাশ নেই৷
আওয়ামী লীগের এবারের ইশতেহারে স্লোগান হলো: ‘স্মার্ট বাংলাদেশ: উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান৷’ দলটি এবার তার ইশতেহারে নিত্যপণ্যের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা, কর্মসংস্থান তৈরি ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণসহ মোট ১১টি বিষয়ের ওপর বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছে৷
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার আত্মপ্রকাশ
১৯৯৬ সালের ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন৷ সেই নির্বাচনে প্রথমবার বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ৷ তবে, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্থাৎ একভাবে ১৫১টি আসন না পাওয়ায় জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে দলটি৷ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার ২১ বছর পর সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা৷
এরপর ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আবারও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কাছে পরাস্ত হয় দলটি৷ শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ হয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল৷
নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন৷ সেই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ৷ দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা নিজের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন৷
এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দশম জাতীয় নির্বাচন৷ সেই নির্বাচনে টানা দ্বিতীয় ও মোট তিন মেয়াদে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ৷ সেই সরকারেও প্রধান হন শেখ হাসিনা৷ ওই নির্বাচনে অবশ্য অংশ নেয়নি বিএনপিসহ বেশকয়েকটি দল৷
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়৷ ওই নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়া নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল বিএনপি৷ শেষ পর্যন্ত কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে দলটি৷ সংলাপে অংশ নেয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে৷ তারপর নির্বাচনে আসতে রাজি হয় তারা৷ সেই নির্বাচনেও ভূমিধস জয় পায় আওয়ামী লীগ৷ সেই ভোট নিয়ে অবশ্য আছে নানা বিতর্ক৷ সরকারবিরোধীদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে ব্যালটে সিল মেরে, কারচুপির মধ্য দিয়ে নিজেদের জয় নিশ্চিত করে আওয়ামী লীগ৷
ওই নির্বাচনে জয়ের পর টানা তৃতীয় ও মোট চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করে৷ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হ্যাট্রিক জয়ের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ৷ সেই সরকারেরও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন শেখ হাসিনা৷