সাম্প্রতিক :
দেশজুড়ে কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা জাপানে ন্যাপথা-জাত পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে: তাকাইচি ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু বিরোধী দলসহ সবাইকে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর জামায়াতে ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি প্রতিষ্ঠিত সত্য : আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এই চেয়ারে বসলে মনে হয় আগুনের তপ্ত হিট আসছে: প্রধানমন্ত্রী মহান মে দিবস আজ, শ্রমিকদের অবদানে শ্রদ্ধা ও অধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার ঢাকা বার নির্বাচন : ৬৬ শতাংশ আইনজীবীই দেননি ভোট শোওয়া শতবার্ষিকীতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী দেশে আশার আলো জাগানোর অঙ্গীকার করেছেন এপ্রিলে মব সহিংসতায় নিহত ২১: এমএসএফ

ঢাবির কেন্দ্রীয় মাঠে ছাত্রীদের প্রবেশে ‘অলিখিত নিষেধাজ্ঞা’

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬

লিখিত কোনো নীতি না থাকলেও মৌখিক নির্দেশের মাধ্যমে সন্ধ্যার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে ক্যাম্পাসে লিঙ্গবৈষম্যের বিতর্ক তীব্র হয়েছে এবং প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) এক নেত্রী।

সম্প্রতি এক নারী শিক্ষার্থীকে কেন্দ্রীয় মাঠের ফটকে আটকে দেওয়া হয়। তাকে জানানো হয়, বিকাল ৫টার পর নারী শিক্ষার্থীরা মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে একই সময়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ফারেহা তুল ফারাহ নামের এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা তাকে কেন্দ্রীয় মাঠে ঢুকতে বাধা দেন। তাদের দাবি ছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসুর যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “ফটকে আমাকে বলা হয়েছে—বিকাল ৫টার পর নারী শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় মাঠে ঢুকতে পারবে না। সবাই পারবে, শুধু মেয়েরা নয়।”

তবে এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসু—উভয় পক্ষই এমন কোনো সিদ্ধান্তের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে।

শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এস এম জাকারিয়া জানান, সন্ধ্যার পর নারী শিক্ষার্থীদের মাঠে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো লিখিত বা মৌখিক নির্দেশনা আমাদের পক্ষ থেকে নেই।” পাশাপাশি তিনি জানান, সন্ধ্যার সময় নারী শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করতে নারী শিক্ষকদের উপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

ডাকসুর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমাও এই সিদ্ধান্তে ছাত্র সংসদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নাকচ করেন। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “বিকাল পাঁচটার পর মেয়েদের মাঠে ঢুকতে না দেওয়া—এটা ডাকসুর সিদ্ধান্ত না, না এবং না। ডাকসুর কাজ শিক্ষার্থীদের মাঠ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া।”

হেমা চাকমা বলেন, এই ঘটনা অলিখিত ও লিঙ্গভিত্তিক নিয়ন্ত্রণের একটি বৃহত্তর চিত্র তুলে ধরে। তিনি জানান, কথিত এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় মাঠে প্রতীকী কর্মসূচি—খেলাধুলা বা সাংস্কৃতিক আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা রাত ১০টা বা ১১টা পর্যন্ত চলতে পারে। পাশাপাশি তিনি প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাবি করার কথাও জানান।

শিক্ষার্থীদের মতে, কেন্দ্রীয় মাঠের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়। বরং এটি এমন একটি সংস্কৃতির অংশ, যেখানে লিখিত নীতির পরিবর্তে মৌখিক নির্দেশের মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল ও কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এতে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা প্রায়ই যাচাইযোগ্য নয়—এমন ‘উপরের নির্দেশের’ কথা বলে বাধা দেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে গত ১৪ জুলাই পালিত ‘নারী শিক্ষার্থী দিবস’-এর কথাও সামনে আসছে। সেদিন এক রাতের জন্য নারী শিক্ষার্থীদের রাত ১০টার পর হলের বাইরে থাকার অনুমতি দেওয়া হলেও অনেক শিক্ষার্থী একে প্রতীকী উদ্যোগ বলে সমালোচনা করেছিলেন। তাদের মতে, এ ধরনের সীমিত ছাড় ক্যাম্পাসে নারীদের চলাচলের ওপর আরোপিত দৈনন্দিন বিধিনিষেধের মূল সমস্যার সমাধান করে না।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com