ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধকে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেছিলেন এবং ইতিহাস বিকৃত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যারা ১৯৭১ সালে রাজাকারের ভূমিকায় ছিল, সেই শক্তিগুলো আবারও ৫৪ বছর পর বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তার ভাষায়, এই দেশে মাথা উঁচু করে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ‘তারুণ্যের ভাবনায় আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আবিদুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয়ের মূল ভিত্তি। যারা মুক্তিযুদ্ধকে বিকৃত করতে চায়, তাদের উদ্দেশে কুমিল্লার মাটি থেকেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দিতে চান—এই দেশে রাজনীতি করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেই রাজনীতি করতে হবে। তিনি দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধারণ করেই তারা ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে রাজপথে নেমেছিলেন এবং প্রয়োজনে জীবন দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ১৯৭১ এবং ২০২৪—উভয়ই বাংলাদেশের সম্পদ ও ইতিহাসের অংশ। একটিকে স্বীকার করে অন্যটিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি মহান স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করে বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে নোংরা স্লোগান ও অপপ্রচার প্রথম শুরু করেছিল শিবিরের সন্ত্রাসীরা। এই ধরনের রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করে না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশপন্থী শক্তির বিরুদ্ধে আঙুল তোলা এবং রাজনীতিতে অপসংস্কৃতি চালু করার পরিণতি ভয়াবহ হবে, যা সংশ্লিষ্টদেরই বহন করতে হবে।
আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মুখ্য আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাইযোদ্ধা জাহিন বিশ্বাস এশা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাইযোদ্ধা নুসরাত চৌধুরী জাফরিনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রনেতারা।