ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত শপথ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই দিন বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা প্রচলিত রীতি থেকে ভিন্ন। সাধারণত মন্ত্রিসভার শপথ বঙ্গভবনের দরবার হলে হয়ে থাকে।
এর আগে শুক্রবার রাতে নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকারের পদ শূন্য থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট জটিলতার কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এমপিদের শপথ পড়াবেন। ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় তিনিও দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এখন সিইসি শপথ পড়ানোর দায়িত্ব পালন করবেন।
দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে নতুন সরকারের শপথ বঙ্গভবনের বাইরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারত, চীন, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান, তুরস্ক ও ব্রুনেইসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে নতুন মন্ত্রীদের দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন মন্ত্রীদের জন্য সরকারি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সরকারি আবাসন পরিদপ্তর তাদের বাসভবন প্রস্তুত করছে।