নির্বাচিত ৭০ আসনের ২১.৪ শতাংশে জাল ভোটের তথ্য পেয়েছে টিআইবি

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

নির্বাচিত ৭০টি আসনের মধ্যে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জাল ভোট প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সোমবার রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামা ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের সার্বিক পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি জানান, মাঠপর্যায়ের গবেষণার জন্য দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নমুনাভিত্তিকভাবে নির্বাচিত ৭০টি আসনের মধ্যে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ আসনে জাল ভোটের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে জাতীয়ভাবে একই হারে জাল ভোট পড়েছে—এ বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ত্রয়োদশ সংসদের প্রায় অর্ধেক সদস্যের দায় বা ঋণ রয়েছে, যার মোট পরিমাণ ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা—যা আগের চারটি সংসদের তুলনায় সর্বোচ্চ। দলগতভাবে বিএনপির সদস্যদের মধ্যে এই হার ৬২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে ১৬ শতাংশ। এছাড়া এবারের সংসদেও ব্যবসায়ী পেশার প্রতিনিধিরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ, প্রায় ৬০ শতাংশ সদস্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। যদিও দ্বাদশ সংসদের তুলনায় ব্যবসায়ীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে, তবে নবম সংসদের তুলনায় বেড়েছে।

প্রতিবেদনে নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কেও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, নির্বাচন আয়োজনে সম্পৃক্ত সরকারি কর্মচারীদের একাংশ, বিশেষ করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অনিয়ম ও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের অনেকের আচরণে সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত হয়নি এবং নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে নির্বাচন কমিশনকে অসহযোগিতার মনোভাবও লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি প্রার্থীদের নির্ধারিত ব্যয়সীমা অতিক্রমের প্রবণতাও অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com