ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তাপ শেষে আজ থেকে শুরু হচ্ছে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করতে যাচ্ছে এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নেবে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন এবং বিকালে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নতুন সরকারের পাঁচ বছরের পথচলা।
সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এস এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। বিকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন। মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এক হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যার মধ্যে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও রয়েছেন।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করা হবে প্রধান অগ্রাধিকার। পাশাপাশি শ্রমবাজার পুনরুজ্জীবন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মভিত্তিক উগ্র মতাদর্শের উত্থানও সরকারের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
এবার মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হচ্ছে, যা অতীতের প্রচলিত রীতি থেকে ব্যতিক্রম। সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলেও স্বাধীনতার ৫৫ বছরে এই প্রথম খোলা আকাশের নিচে সংসদ প্রাঙ্গণে শপথ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর স্মৃতিকে সামনে রেখে এ স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। এছাড়া ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির উপস্থিত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। গত ১৮ মাসে আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। বিনিয়োগ কমে যাওয়া, কর্মসংস্থান সংকট, বৈদেশিক বাণিজ্যে স্থবিরতা এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি শক্তিশালী প্রশাসন গড়ে তোলা, অর্থনীতির ভিত মজবুত করা এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করাও সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।