টাঙ্গাইলের পৃথক দুই স্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র একটি সাংগঠনিক কার্যালয় এবং এক সমর্থকের চারটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের জন্য জামায়াত বিএনপিকে দায়ী করলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ঘটনার পর তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের মেঘারপটল এলাকায় নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এর কিছুক্ষণ পর ওই এলাকায় স্থাপিত জামায়াতের কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কাজল ও তার সমর্থকদের দায়ী করছেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে গাবসারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এস এম ফরহাদুল ইসলাম শাপলাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জমান তালুকদার সেলু স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভূঞাপুর উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ করেন, জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি দুঃখজনক এবং বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জমান তালুকদার সেলু বলেন, ওই দিন দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলেও আগুনের ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত নয়; তৃতীয় পক্ষ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো জামায়াতের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি এবং স্থানীয়দের কাছ থেকেও নির্দিষ্টভাবে কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।
অন্যদিকে সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের হামিদপুর এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে আমির হামজা নামে এক ব্যক্তির বাড়ির চারটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা এই ঘটনা ঘটায় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল-৮ আসনের পরাজিত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সখীপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মনিরুজ্জামান বলেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাদের এক সমর্থকের খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দলটির নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।