বাসা না ছাড়লে সাবেক উপদেষ্টাদের বাসা ভাড়া দেওয়ার নির্দেশ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সরকারি বাসভবনে দীর্ঘদিন অবস্থান করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। চলতি মাসের মধ্যেই তাদের সরকারি বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে কেউ সমস্যায় পড়লে সর্বোচ্চ এক থেকে দুই মাস অতিরিক্ত সময় দেওয়া হতে পারে। নির্ধারিত সময়ের পরও সরকারি বাসভবনে থাকতে চাইলে সরকার নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আবাসন পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এই মাসের জন্য ভাড়া নেওয়া হবে না। তবে ফেব্রুয়ারির পর সরকারি বাসায় থাকার জন্য সাবেক উপদেষ্টা বা অন্য কারও পক্ষ থেকে এখনো কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি।

এদিকে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছেড়ে রাজধানীর ঢাকার গুলশানে নিজ বাসভবনে উঠবেন বলে জানা গেছে।

আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানান, সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো নীতিমালা নেই এবং তারা পেনশন সুবিধাও পান না। বিষয়টি আগেই সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য থাকতে দেওয়া যেতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে ভাড়া দিতে হবে।

বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জন্য মিন্টো রোড ও হেয়ার রোড এলাকায় ২৪টি বাংলো ও ১২টি অ্যাপার্টমেন্ট প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি বিরোধীদলীয় নেতার জন্য একটি পৃথক বাসভবন রয়েছে। এসব বাসভবন দ্রুত সংস্কার করে এক মাসের মধ্যে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মার্চের মধ্যেই বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে আবাসন পরিদপ্তর।

ইতোমধ্যে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার ২১ জন বাসা বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছেন। কোন বাসভবন কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে এবং বিষয়টি মন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আবেদনকারীদের পছন্দ অনুযায়ী বাসভবন পরিদর্শনের সুযোগও দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে সরকারে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাসহ মোট দায়িত্বশীল ব্যক্তির সংখ্যা ৬০-এর বেশি হলেও বরাদ্দযোগ্য বাসভবন রয়েছে মাত্র ৩৭টি। ফলে সবাই সরকারি বাসা চাইবেন না—এমন ধারণা থেকেই আবাসন ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com