সাম্প্রতিক :
দেশজুড়ে কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা জাপানে ন্যাপথা-জাত পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে: তাকাইচি ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু বিরোধী দলসহ সবাইকে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর জামায়াতে ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি প্রতিষ্ঠিত সত্য : আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এই চেয়ারে বসলে মনে হয় আগুনের তপ্ত হিট আসছে: প্রধানমন্ত্রী মহান মে দিবস আজ, শ্রমিকদের অবদানে শ্রদ্ধা ও অধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার ঢাকা বার নির্বাচন : ৬৬ শতাংশ আইনজীবীই দেননি ভোট শোওয়া শতবার্ষিকীতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী দেশে আশার আলো জাগানোর অঙ্গীকার করেছেন এপ্রিলে মব সহিংসতায় নিহত ২১: এমএসএফ

শেয়ারবাজারে আবারও বড় দরপতন, দর হারাল ৮৯% প্রতিষ্ঠান

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতনের মুখে পড়েছে দেশের শেয়ারবাজার। মঙ্গলবার অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় সূচকেও বড় পতন দেখা গেছে। তবে বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় দরপতন হলেও লেনদেনের পরিমাণ ছিল আশাব্যঞ্জক।

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দিন শেষে ২০৯ পয়েন্ট বা প্রায় ৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩২৫ পয়েন্টে। এর ফলে সূচকটি প্রায় এক মাস আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি সূচকটি ৫ হাজার ৩১২ পয়েন্টে নেমেছিল। এদিন লেনদেন হওয়া ৩৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৪৯টির (৮৯ শতাংশ) দাম কমেছে, বেড়েছে ৩১টির (৮ শতাংশ) এবং অপরিবর্তিত ছিল ১১টির (৩ শতাংশ) শেয়ারদর।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত শনিবার ইসরায়েলযুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। এতে আঞ্চলিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। সংকট শুরুর পর রোববার ডিএসইএক্স ১৩৮ পয়েন্ট কমে যায়। যদিও সোমবার ৭২ পয়েন্ট বেড়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় বাজার, তবে তৃতীয় কার্যদিবসে আবারও বড় পতন হয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি ও বাংলাদেশের বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর শীর্ষ পদে পরিবর্তন নিয়ে গুঞ্জনও বাজারে অস্থিরতা বাড়ায়। নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের গুজব ছড়িয়ে পড়লেও পরে তা অসত্য প্রমাণিত হয়। এ পরিস্থিতিতে একাংশ বিনিয়োগকারী ব্যাপক শেয়ার বিক্রি করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউস লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় মূলধনী ও ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারের দরপতনই সূচক কমার প্রধান কারণ। যেসব কোম্পানির দরপতনে সূচক বেশি প্রভাবিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি), বেক্সিমকো ফার্মা, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, পূবালী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক এবং ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ। এই ১০ কোম্পানির শেয়ারের সম্মিলিত দরপতনে ডিএসইএক্স সূচক কমেছে ৯৩ পয়েন্টের বেশি। এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ও বিএটিবিসির দরপতনেই সূচক প্রায় ৪৩ পয়েন্ট কমে যায়।

এদিন ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারদর প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ কমেছে। ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর কমেছে ৫ শতাংশ এবং বিএটিবিসির শেয়ারদর কমেছে ৯ শতাংশ। অন্যদিকে কিছু দুর্বল ও মাঝারি মানের শেয়ারের দাম বাড়লেও সূচকে সেগুলোর প্রভাব ছিল সামান্য।

বড় দরপতনের প্রভাবে একদিনেই ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১২ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত শেয়ারমূল্য এ পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে।

তবে ইতিবাচক দিক হিসেবে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। দিন শেষে লেনদেন হয়েছে ৮৮৫ কোটি টাকার শেয়ার, যা আগের দিনের তুলনায় ১০৫ কোটি টাকা বেশি। লেনদেনের শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংক, রবি আজিয়াটা, ওরিয়ন ইনফিউশন, ব্র্যাক ব্যাংক এবং সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট। এই পাঁচ কোম্পানির সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬২ কোটি টাকা।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com