ক্ষমতাসীন উপদেষ্টা পরিষদ থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দু’জনই আগামী সপ্তাহে পদত্যাগ করতে পারেন বলে সরকার ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আসিফ মাহমুদ জানান, তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং নীতিগতভাবে উপদেষ্টা পদে থেকে ভোটে অংশ নেওয়াকে উপযুক্ত মনে করছেন না। তিনি বলেন, উপদেষ্টা হওয়া নির্বাচন করতে আইনি বাধা নয়, তবে নীতিগত কারণে তিনি পদ ছেড়েই প্রার্থী হবেন। কোন দল থেকে নির্বাচন করবেন তা এখনও চূড়ান্ত নয় বলেও জানান তিনি। পূর্বে তিনি কুমিল্লার ভোটার ছিলেন, তবে সম্প্রতি ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা-১০ আসনে নিবন্ধিত হয়েছেন, ফলে ধারণা করা হচ্ছে তিনি এই আসনেই লড়তে পারেন।
অন্যদিকে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, তিনি দুই মাস ধরে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তিনি পদ ছাড়বেন কি না তা নিয়ে দোটানায় রয়েছেন।
এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন আগামী বছরের ৫, ৮ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। কর্মকর্তাদের মতে, ৮ ফেব্রুয়ারি দিনটি তুলনামূলক সুবিধাজনক, কারণ তার আগে দুইদিন টানা সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শহর-নির্ভর ভোটাররা নিজ এলাকায় ফিরে ভোট দিতে পারবেন। কমিশন ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ও ১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা করছে।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কাউন্সিলের সভায় নতুন রাজনৈতিক জোটে যাওয়ার বিষয়টি ঘিরে দলীয় মতবিরোধ তীব্র হয়েছে। সম্ভাব্য জোটে যদি ‘আপ বাংলাদেশ’ অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন অনেক সদস্য। বিরোধিতাকারীদের অধিকাংশই দুই উপদেষ্টার অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তারা বরং বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
অন্যদিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও তার অনুসারীরা এবি পার্টি, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, জেএসডি ও গণ অধিকার পরিষদকে নিয়ে তৃতীয় একটি জোট গঠনের পক্ষে। ফলে দলটির ভেতরে জোট-রাজনীতি নিয়ে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে, যার সঙ্গে দুই উপদেষ্টার সম্ভাব্য পদত্যাগ ও নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ও যুক্ত হয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।