জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা দলটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে এনসিপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে তাসনিম জারা নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টে বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে সংসদে গিয়ে ঢাকা-৯ আসনের মানুষের সেবা করার স্বপ্ন ছিল তার। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি কোনো দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার অঙ্গীকার থেকেই এই সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তাসনিম জারার স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহ এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনিও দলটি থেকে পদত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে খালেদ সাইফুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠনের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে তাসনিম জারা দল ছাড়েন। ঢাকা-৯ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার আলোচনা চলছিল। তার পদত্যাগের পর ওই আসনে হুমায়রা নূরকে এনসিপির প্রার্থী করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে জামায়াত এই আসন ছাড়বে কিনা, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, এনসিপির জ্যেষ্ঠ নারী নেতাদের একটি বড় অংশ জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে আসছেন। এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, জ্যেষ্ঠ সদস্য সচিব নাহিদ সারোয়ার নিভা, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনুভা জাবীন ও যুগ্ম সদস্য সচিব নুসরাত তাবাসসুমসহ একাধিক নেতা তাদের অসন্তোষ দলীয় ফোরামে প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, আগেই সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাসনিম জারা গণচাঁদার মাধ্যমে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রয়োজনীয় এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে যারা তাকে নির্বাচনের জন্য চাঁদা দিয়েছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।