বিদায়ী বছর ২০২৫ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৮ জন শিশু ও কিশোর নিহত হয়েছে। নিহতদের বয়স ছিল ১ মাস থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সংগঠনটি গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী, চালক বা হেলপার হিসেবে প্রাণ হারিয়েছে ৫৩৭ জন, যা মোট মৃত্যুর ৫৩ দশমিক ২৭ শতাংশ। অপরদিকে পথচারী হিসেবে যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৪৭১ জন শিশু, যা মোটের ৪৬ দশমিক ৭২ শতাংশ।
সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিশু মৃত্যুর সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এসব সড়কে নিহত হয়েছে ৩৬৪ জন শিশু, যা ৩৬ দশমিক ১১ শতাংশ। মহাসড়কে প্রাণ হারিয়েছে ২৮১ জন (২৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ), গ্রামীণ সড়কে ২৯১ জন (২৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ) এবং শহরের সড়কে নিহত হয়েছে ৭২ জন শিশু, যা মোট মৃত্যুর ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি নিহত শিশু সংখ্যা ১৭৯ জন (১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ)। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সি শিশু নিহত হয়েছে ৩৮২ জন (৩৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ) এবং ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সি কিশোর নিহত হয়েছে ৪৪৭ জন, যা মোট মৃত্যুর ৪৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর উচ্চ হারের পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—দেশের সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থা শিশুবান্ধব না হওয়া, সড়ক ব্যবহারে শিশুদের মধ্যে সচেতনতার অভাব, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে পর্যাপ্ত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের দ্বারা যানবাহন পরিচালনা, দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট এবং অনেক পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক ব্যবস্থাপনায় দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি।