সাম্প্রতিক :

কাল রাজধানীর তিন স্থানে অবরোধের ঘোষণা দিয়ে সায়েন্স ল্যাব ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের অধ্যাদেশ দ্রুত জারির দাবিতে আন্দোলনরত সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সায়েন্স ল্যাব, তাঁতিবাজার ও টেকনিক্যাল মোড়ে অবরোধ চলবে।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে আয়োজিত ব্রিফিং শেষে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে সরে যান। এতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে দিনের বিভিন্ন সময় রাজধানীর একাধিক স্থানে অবরোধের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

দুপুর ১২টা থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা তাঁতিবাজার মোড়, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা টেকনিক্যাল মোড় এবং তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা মহাখালীর আমতলী মোড় অবরোধ করেন। পরে দুপুর ১টার পর ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে আন্দোলনে যোগ দেন।

দুপুর ৩টার পর তাঁতিবাজার, টেকনিক্যাল ও আমতলী এলাকার অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব এলাকায় অবস্থান বজায় রেখে অধ্যাদেশ দ্রুত জারির দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যান।

সন্ধ্যার ব্রিফিংয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নাঈম হাওলাদার বলেন, জানুয়ারির শুরুতে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসলে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের অধ্যাদেশ জারি করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশ না আসায় তারা পুনরায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সরকার থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এ ঘোষণার পর শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব মোড় ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে জানুয়ারির প্রথম দিকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন জারির দাবি জানিয়েছিল।

গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি খসড়া প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়। এতে সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে পুনর্গঠন করে স্কুলিং পদ্ধতিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামো গঠনের কথা বলা হয় এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তর বহাল রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এই কাঠামোর বিরোধিতা করছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এ মডেলে কলেজগুলোর বিদ্যমান কাঠামো ও শিক্ষকদের পদোন্নতির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা কলেজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে অধিভুক্তমূলক কাঠামোয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খসড়াটি সংশোধন করে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত সংযুক্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ ও লেজিসলেটিভ বিভাগের প্রক্রিয়া শেষে অধ্যাদেশটি উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়েছে এবং উচ্চশিক্ষার নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পেশাদারিত্ব ও সহনশীলতা জরুরি।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com