দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. শামীম আহসান। তিনি দাবি করেন, ডাকসু একসময় মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল এবং ইসলামী ছাত্রশিবির সেটির অবস্থা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে।
গত শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিঁড়া ইউনিয়নের কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।
জনসভায় বক্তব্যে মো. শামীম আহসান বলেন, যে ডাকসু একসময় মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, ইসলামী ছাত্রশিবির তা পরিবর্তন করেছে। তার মতে, এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই জামায়াতে ইসলামী দেশ থেকে অন্যায়, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দূর করতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালের মুক্তির লক্ষ্যে রাজনীতি করে। এজন্য সব ধরনের ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ঈমানের শক্তিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। আগামী দিনে ভোটকেন্দ্রগুলোতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করতে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার কথাও বলেন।
সভায় উপস্থিতদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরকে যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের পরিবার এই সমাজেরই অংশ। তার দাবি, ছাত্রশিবির যদি ডাকসুতে নেতৃত্ব দিতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামীও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে পারবে।
এ বিষয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে মো. শামীম আহসান বলেন, তিনি বলতে চেয়েছেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা সমস্যা ছিল এবং সেগুলোর সমাধানে ইসলামী ছাত্রশিবির ভূমিকা রেখেছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘বেশ্যাখানা’ বলা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এদিকে, এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।