মেহেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মওলানা তাজ উদ্দিন খানের ব্যবহৃত একটি নোহা মাইক্রোবাস থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে তিনজনকে আটক করেছিল যৌথ বাহিনী। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে শহরের হোটেল বাজার চার রাস্তার মোড়ে যৌথ বাহিনীর একটি চেকপোস্টে গাড়ি তল্লাশির সময় এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—বাংলা এডিশনের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি ও জামায়াত কর্মী সেলিম রেজা (২৭), জেলা জামায়াতের আমির তাজ উদ্দিন খানের ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন শাহারুল ইসলাম এবং মাইক্রোবাসের চালক ইজারুল হক।
যৌথ বাহিনীর তল্লাশিতে মাইক্রোবাস থেকে তিনটি ফোল্ডেবল স্টিক, একটি ইলেকট্রিক শকার, চারটি ওয়াকিটকি, একটি মাল্টি-টুল (মেকাইভার), একটি প্লাস, একটি ধারালো চাইনিজ কুড়াল, একটি ক্যামেরা ও চার্জার উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, মেহেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনী জনসভাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে তল্লাশি চালাচ্ছিল সেনাবাহিনীর একটি দল। এ সময় ঢাকা মেট্রো-চ ১৯-৪১৪৬ নম্বরের মাইক্রোবাসটি হোটেল বাজার মোড়ে পৌঁছালে তাতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করে গাড়িতে থাকা তিনজনকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আটক ব্যক্তিদের হেফাজতে নেয় এবং উদ্ধারকৃত সরঞ্জামসহ মাইক্রোবাসটি জব্দ করে। তবে থানায় নিয়ে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
মেহেরপুর সদর থানার এসআই বিএম রানা বলেন, উদ্ধারকৃত জিনিসপত্রের মধ্যে ফোল্ডেবল স্টিক, ইলেকট্রিক শকার, ওয়াকিটকি, মাল্টি-টুল, প্লাস, চাইনিজ কুড়াল, ক্যামেরা ও চার্জার ছিল। প্রাথমিকভাবে সেগুলো পরীক্ষা করে আইনগত কোনো অপরাধের প্রমাণ না পাওয়ায় আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সন্ধ্যায় এ ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা জামায়াতে ইসলামি। সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন দাবি করেন, আমিরের গাড়িচালক পথিমধ্যে একজন সাংবাদিক ও আরেকজন ব্যক্তিকে গাড়িতে তুলে সমাবেশে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, গাড়িতে থাকা সরঞ্জামগুলো আত্মরক্ষামূলক এবং সেগুলোকে অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি বলেই পুলিশ সবাইকে ছেড়ে দেয়। একই সঙ্গে কিছু গণমাধ্যম এ ঘটনাকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।