ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বী অভিযোগ করেছেন, ইসলামি ছাত্রশিবির ভিন্নমত দমনে ব্যক্তিগত জীবনাচরণে নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর থেকেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক হয়রানি ও চরিত্রহননের শিকার হচ্ছেন।
তন্বী জানান, সম্প্রতি বরগুনার এক জামায়াত নেতার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মসূচিতে তিনি ছাড়াও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার পর থেকেই শিবির ও শিবিরপন্থীদের একটি অংশ তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করে।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তন্বী বলেন, বরগুনার ওই জামায়াত নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুকে ‘বেশ্যাখানা’ বলে মন্তব্য করেছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি কোনো নির্বাচন, আদর্শ কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রশ্ন ছিল না। নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অশালীন ও অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদ হিসেবেই তিনি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
ডাকসু নেত্রীর অভিযোগ, শিবির ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না এবং কেউ তাদের অবস্থানের বিপক্ষে গেলেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তাঁর দাবি, ভিন্নভাবে চিন্তা করা বা মত প্রকাশ করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবন টেনে এনে আক্রমণ করা হয়, যা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, একসময় ছাত্রশিবির নির্যাতিত ছিল—এই বাস্তবতা তিনি অস্বীকার করেন না। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ক্ষমতা ও সুযোগ পেয়ে সংগঠনটি বাড়াবাড়ি করছে বলে তাঁর অভিযোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য, বানানো গল্প ও ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে চরিত্রহননের চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তন্বী বলেন, গালাগালি ও অপপ্রচারে তিনি ভেঙে পড়েন না। অতীতেও ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হয়ে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবাইকে একই মানদণ্ডে বিচার করা উচিত।