ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে এক আওয়ামী লীগ কর্মীর বাড়ি ও স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিক্ষোভ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র নেতাকর্মীরা।
গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের শ্রীকান্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ খাঁ আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সরকারের পতনের পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত প্রার্থী পরাজিত হওয়ার পর স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ খাঁ দাবি করেন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা জহুরুল ইসলামের ভাতিজা পলাশের নেতৃত্বে ২৫–৩০ জনের একটি দল রাতের আঁধারে তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় বলে তিনি জানান। যাওয়ার সময় স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাওলানা জহুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এটিকে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা বলে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, পাবনা-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের কাছে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব পরাজিত হয়েছেন।