একটি নির্বাচন ‘অংশগ্রহণমূলক’ হয়েছে কিনা তা শুধু ভোটের হার দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না বলে মনে করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। তাদের মতে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মূল বিষয় হলো সমাজের সব প্রতিনিধিত্বশীল গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়া।
শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন মিশনের প্রধান আইভার্স আইজাবস। তিনি বলেন, তাদের পর্যবেক্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল নির্বাচনী প্রক্রিয়া। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিল কি না—এ বিষয়টি সংবেদনশীল এবং অনেক দেশের জন্যই জটিল বাস্তবতা, যা ‘ট্রানজিশনাল জাস্টিস’ বা রূপান্তরমূলক বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন ছিল অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর উপস্থিতি ভোটারদের জন্য পছন্দের সুযোগ তৈরি করেছে। তার মতে, এ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য অগ্রগতির একটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ভোটের হার প্রসঙ্গে আইভার্স আইজাবস বলেন, বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবে ভোটার উপস্থিতি কখনো বেশি, কখনো কম হয়েছে এবং এবারের হার মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক দেশেই ভোটার উপস্থিতি কমছে, তাই শুধু শতাংশ দিয়ে অংশগ্রহণের মানদণ্ড নির্ধারণ করা যায় না।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে বোঝায়—সমাজের সব প্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠী তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে কিনা এবং কাউকে বাদ দেওয়া হচ্ছে কিনা। তাই ভোটার উপস্থিতির হার একমাত্র বিবেচ্য নয়।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়নি এবং ব্যালট পেপারেও দলটির প্রতীক ছিল না।