এবারের নির্বাচনে বিএনপি ছেড়ে জামায়াত জোটে যাওয়ার পর চট্টগ্রামের চন্দনাইশ–সাতকানিয়া এলাকায় আলোচিত নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ-এর রাজনৈতিক অবস্থানের বড় ধস নেমেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে তার শক্ত ঘাঁটি থাকলেও এবার নানা সমালোচনার মধ্যে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দিন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, জামায়াতের সঙ্গে জোট এবং অলির কঠোর অবস্থানের কারণেই ভোটে তার পতন ঘটেছে।
মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা অলি আহমেদ বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ সালের নির্বাচন থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিএনপি সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন। ২০০১ সালের পর দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলে তিনি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) গঠন করেন। এবারের নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রত্যাশিত আসন না পেয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ায় তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। চন্দনাইশে নিজের ছেলে ওমর ফারুককে প্রার্থী করলেও মাঠে সক্রিয় ছিলেন তিনি নিজেই।
অন্যদিকে বিএনপির বিভিন্ন পক্ষ এক হয়ে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে। চন্দনাইশ উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন বলেন, বিএনপির নেতাকর্মী ও জাতীয়তাবাদী মনোভাবাপন্ন ভোটারদের বড় অংশ মানসিকভাবে অলির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জসীম উদ্দিন বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের উন্নয়নে কাজ করবেন। তিনি নির্বাচনে বিজয়কে জনগণের ঐক্যের ফল বলে উল্লেখ করেন।
তবে পরাজয়ের জন্য প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমেদ। তার অভিযোগ, তার ছেলে ওমর ফারুকের প্রায় সাড়ে চার হাজার ভোট বাতিল করা হয়েছে এবং এর সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দুর্গ ধরে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন অলি আহমেদ, যা এ আসনে বিএনপি প্রার্থীর বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।