ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন এবং সবকিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি শপথ নেবেন। এর মাধ্যমে বাবা-মায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধরে রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি। দলীয় সূত্র জানায়, সরকার গঠন ও মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়ার আগে রাজনৈতিক সম্প্রীতির বার্তা দিতে প্রধান প্রতিপক্ষ ও সম্ভাব্য বিরোধী দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তারেক রহমান। গত দুই দিনে সংসদের বিরোধী আসনে বসতে যাওয়া তিনটি দল— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর শীর্ষ নেতাদের বাসভবনে গিয়ে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় সম্প্রীতি ও সহনশীলতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার আশ্বাস দেন।
১৪ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের পর তিনি প্রথমে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান-এর বাসভবনে যান। সেখানে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয় এবং বিরোধী দলকে মর্যাদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পরে একই রাতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম-এর বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে দুই পক্ষই ইতিবাচক রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে মত প্রকাশ করেন।
১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম-এর বাসভবনে যান, যিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির হিসেবে পরিচিত। এ সময় দুই দলের নেতারা ভবিষ্যতে গঠনমূলক রাজনৈতিক ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারাও এসব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিভিন্ন দলের নেতারা তারেক রহমানের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ রাজনৈতিক সৌজন্য ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত বহন করে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দেশের স্বার্থে সব দলের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন এবং এ ধরনের উদ্যোগ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হতে পারে।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা মনে করেন, মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখা জরুরি। তাদের মতে, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক থাকলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।