ইউরোপে ১০ লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে পাঁচ বছর মেয়াদি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণা করেছে চারটি প্রবাসী সংগঠন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব-এর আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ইতালবাংলা সমন্বয় ও উন্নয়ন সমিতি, বাংলাদেশ প্রবাসী উন্নয়ন সমিতি, বাংলাদেশী মাইগ্রেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন এবং বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ফাউন্ডেশন (বিএমএফ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানান, ২০৩১ সালের মধ্যে ইউরোপে ১০ লাখ দক্ষ কর্মী বৈধ ও নিরাপদভাবে পাঠানোর মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ইতালবাংলা সমন্বয় ও উন্নয়ন সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ প্রবাসী উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান ছোটন বলেন, নবনির্বাচিত সরকার প্রবাসীবান্ধব অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তারা আশা করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বছরে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের সরাসরি অংশগ্রহণ নেই। এজন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি শক্তিশালী ও পেশাদার ইউরোপীয় উইং গঠনের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সংসদে সংরক্ষিত আসন, মন্ত্রণালয়ে দক্ষ পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং ঘোষিত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরকে অভিনন্দন জানানো হয়।

বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জয় বলেন, দক্ষ ও নিরাপদ শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সিন্ডিকেটমুক্ত কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে কর্মীবান্ধব করার পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে দক্ষ কর্মীদের অভিবাসন ব্যয়ের পুরো অর্থ ঋণ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাবও তুলে ধরেন তিনি।

বাংলাদেশী মাইগ্রেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য সারা দেশে বিএমইটির অধীন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো কার্যকরভাবে চালু করা প্রয়োজন। জনসচেতনতা বাড়িয়ে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সংগঠনগুলোর নেতারা মনে করেন, পরিকল্পিত ও রাষ্ট্রীয় সহায়তায় এ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হলে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে এবং প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com