বিএনপি যদি স্থানীয় পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারে, তবে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ার পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে সরাইলের শাহবাজপুরে নিজ বাসভবনে তিনি জানান, নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে প্রোটোকল অনুযায়ী তিনিই প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে উপস্থিত বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় এবং তাঁকে ধাক্কা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর দলটি যদি এখনই স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা না করে, তাহলে তা দলের জন্য ক্ষতিকর হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক চাপে থাকা নেতাকর্মীরা ক্ষমতার প্রভাবে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করলে দলের উচ্চপর্যায়ের তাৎক্ষণিক নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় এতে দলের পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হামলা দাবি করে রুমিন ফারহানা বলেন, গুন্ডা প্রকৃতির একটি গোষ্ঠী তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং এটি তাঁর নির্বাচনী বিজয় মেনে নিতে না পারার ফল। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
এর আগে শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে সরাইল উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বিএনপির একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তাঁর আনা পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার প্রতিবাদে তাঁর সমর্থকেরা রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। প্রশাসনের আশ্বাসে প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।