বাংলা ভাষাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা হচ্ছে—এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধ্যাপক তারিক মনজুর। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা হলেও এটিকে ভাষার বিকৃতি হিসেবে দেখার সুযোগ কম; বরং এর পেছনে রাজনৈতিক বা জাতিগত পরিচয়ের প্রভাব বেশি।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে বাংলা ভাষার প্রচার-প্রসার ও সংকট নিয়ে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক তারিক মনজুর বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন করে কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। কেউ কেউ ‘ন্যায়বিচার’-এর বদলে ‘ইনসাফ’, ‘ব্যবস্থা’র বদলে ‘বন্দোবস্ত’, ‘মীমাংসা’র বদলে ‘ফয়সালা’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করছেন। অনেকের আশঙ্কা—এতে ভাষার চেহারা বদলে যেতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, বাংলা ভাষায় একই অর্থের একাধিক শব্দ থাকা স্বাভাবিক বিষয়।
তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে ১৯৪৯ সালে গঠিত ‘ইস্ট বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ কমিটি’ মুসলিম রাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে কিছু আরবি-ফারসি ঘেঁষা শব্দ ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল। সে সময় এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন ভাষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা। বিশেষ করে মুনীর চৌধুরী এ ধরনের সুপারিশের সমালোচনা করেন এবং পরে লেখক হুমায়ুন আজাদ এটিকে বাঙালি জাতিসত্তাকে দুর্বল করার চক্রান্ত বলে উল্লেখ করেছিলেন।
তারিক মনজুর বলেন, ভাষায় নতুন শব্দ বা ভিন্ন শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা অনেক সময় ভাষাগত নয়, বরং রাজনৈতিক পরিচয় বা সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের প্রশ্ন হয়ে ওঠে। তাই এটিকে ভাষিক বিকৃতি বলা ঠিক নয়। ভাষা শেষ পর্যন্ত মানুষের সম্মিলিত ব্যবহারের মাধ্যমেই টিকে থাকে—কৃত্রিম বা আরোপিত উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্ম প্রমিত ভাষা কম ব্যবহার করছে—এ নিয়েও আলোচনা আছে। তবে ভাষার পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিশ্বের বড় ভাষাগুলোও অন্য ভাষার প্রভাব নিয়েছে। তাই ইংরেজিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখার চেয়ে বাংলা ভাষাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও সক্ষম করে তোলাই বেশি জরুরি।