অমর একুশে বইমেলায় নকল ও নিম্নমানের বই বিক্রি বন্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাঠকের স্বার্থ রক্ষায় দায়ী লেখক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বইমেলার মান ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে চায় কর্তৃপক্ষ।
বাংলা একাডেমি সূত্র জানায়, ২২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন মৌসুমি লেখক ও প্রকাশকদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন। কোনো স্টলে নকল বা নিম্নমানের বই পাওয়া গেলে দায়ীদের জেল-জরিমানাসহ কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। পাঠকের অধিকার রক্ষায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে।
শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা কমিটি তিনটি মনিটরিং সেল গঠন করেছে। এসব দল স্টলভিত্তিক নজরদারি চালিয়ে সন্দেহভাজন বই জব্দ করবে এবং বিশেষজ্ঞ কমিটির কাছে পাঠাবে। কমিটি ১২ ঘণ্টার মধ্যে মতামত দেবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রতি বছর বইমেলা এলেই একদল লেখক যাচাই-বাছাই ছাড়া নিম্নমানের বই প্রকাশ করেন এবং কিছু মৌসুমি প্রকাশক অর্থের বিনিময়ে সেসব বই বাজারজাত করেন। অনেক পাঠক অভিযোগ করেছেন, নির্দিষ্ট কিছু স্টলে বই কিনতে চাপ বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখেও পড়তে হয়।
মনিটরিং সেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার শুধু কাগজ ও ছাপার মান নয়, বইয়ের ভেতরের লেখার মানও যাচাই করা হবে। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে বইয়ের অংশবিশেষ পড়ে প্রাথমিক মূল্যায়ন দেওয়া হবে, যাতে পাঠক মানসম্মত বই পান।
এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও। তাদের মতে, নিম্নমানের বই কম প্রকাশিত হলে কাগজ, কালি ও বিদ্যুতের অপচয় কমবে এবং পরিবেশের ওপর চাপ হ্রাস পাবে। তবে প্রকাশকদের একটি অংশ উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, সাহিত্যমান নির্ধারণ রাষ্ট্রের কাজ নয়। বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, এটি সাহিত্য নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং ভোক্তা সুরক্ষার উদ্যোগ।