সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বেশির ভাগই আইনে রূপান্তর হচ্ছে না বলে জানা গেছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ছাড়া বাকি অধিকাংশই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে অনুমোদনের জন্য তোলা হবে না বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত আজকের পত্রিকা–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ বসার কথা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপান্তর না করলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধিকাংশ অধ্যাদেশ বাতিলের দিকেই এগোচ্ছে। যেগুলো আইনে পরিণত করার প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে তালিকা চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নির্বাচিত অধ্যাদেশগুলোর খসড়া প্রস্তুত করা হবে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ৫৫৯ দিনে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল, অর্থাৎ গড়ে প্রায় প্রতি চার দিনে একটি করে অধ্যাদেশ জারি হয়। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে এগুলো আইনে রূপান্তর করতে হলে বর্তমান সরকারকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চারটির মতো অধ্যাদেশ পাস করতে হতো, যা বাস্তবে কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তড়িঘড়ি করে অনেক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বার্থের বিষয়ও ছিল।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে থাকা বা অধিবেশন না থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো সত্যিই জরুরি প্রয়োজন থেকে করা হয়েছিল কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদারের মতে, অনেক অধ্যাদেশ অপ্রয়োজনীয় ছিল এবং সরকার চাইলে সেগুলো সংসদে উপস্থাপন নাও করতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোন অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করা হবে তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত হলে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবে এবং সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যেসব অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করা হবে, সেগুলোও বর্তমান প্রেক্ষাপট ও সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সংশোধন করে পাস করা হতে পারে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই সরকার ২০২৪ সালে ১৭টি, ২০২৫ সালে ৮০টি এবং ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আরও ৩৬টি অধ্যাদেশ জারি করে। বাজেটসংক্রান্ত কিছু অধ্যাদেশ অবশ্য আইনে পরিণত করা বাধ্যতামূলক বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।