কোনো ধরনের ‘কারণ ব্যাখ্যা’ না করেই জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদ থেকে আফসানা বেগমকে অব্যাহতি দিয়েছে অন্তবর্তী সরকার।
মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “গত ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখের প্রজ্ঞাপনমূলে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র-এর পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকৃত আফসানা বেগম-এর নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হল।”
সরকার যখন এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তখন আফসানা বেগম তার সহকর্মীদের সঙ্গে চার দিনের একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ঢাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন।
বুধবার সকালে আফসানা বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি ২৫ জন সহকর্মীকে নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসেছি। চার দিনের কর্মশালায় তিন দিন হয়েছে। গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমার এক সহকর্মী জানিয়েছে, সরকার আমাকে অব্যহতি দিয়েছে। আমি এখন ঢাকায় ফিরে যাচ্ছি।”
এই অব্যহতির বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছুই জানতেন না বলেও মন্তব্য করেন।

আফসানা বেগম বলেন, “আমাকে কোনো রকম ‘কারণ দর্শানোর’ নোটিস ছাড়াই এটি করা হয়েছে। সরকার যে কোনো সময় নিয়োগ বাতিল করার এখতিয়ার রাখে, সরকার বাতিল করেছে। এখন আমার আর কিছুই বলার নাই।”
নিজের কাজ ‘অর্ধ সমাপ্ত থাকার কথা’ মন্তব্য করে করে আফসানা বেগম বলেন, “আমি তো দুই বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছিলাম, সে অনুযায়ী কাজের পরিকল্পনা করে এগুচ্ছিলাম। এখন কিছু কাজ অর্ধ-সমাপ্ত রেখেই চলে যেতে হচ্ছে।”
আফসানা বেগমের স্থলভিষিক্ত হচ্ছেন বলে এ এইচ এম সাখাওয়াত উল্লাহকে (কবি সাখাওয়াত টিপু) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
তবে কবি সাখাওয়াত টিপু বুধবার সকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, তার কাছে নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের চিঠি এখনো পৌঁছায়নি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন আফসানা বেগম পরে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।
শিশু-কিশোরসাহিত্যসহ আফসানা বেগমের বইয়ের সংখ্যা ২৪। উল্লেখযোগ্য বই প্রতিচ্ছায়া, বেদনার আমরা সন্তান, আমি অথবা আমার ছায়া, দিনগত কপটতা। অনুবাদ করেছেন নাদিন গড়িমার, উইলিয়াম ফকনার, হুলিও কোর্তাসার, অ্যালিস মানরো, আইজাক আসিমভ, ফিদেল কাস্ত্রো। ২০১৪ সালে পেয়েছেন জেমকন তরুণ কথাসাহিত্য পুরস্কার।