২০২৫ সালে দেশজুড়ে প্রতিদিন গড়ে ১১ জন হত্যার শিকার হয়েছেন, যা আগের দুই বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এর মধ্যে একশ’র বেশি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর একের পর এক হত্যাকাণ্ড জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। গত ১৭ নভেম্বর মিরপুরে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়াকে। ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিতে নিহত হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদী। সর্বশেষ গত বুধবার তেজগাঁও এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে অন্তত ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৭৪৪ জন।
পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে সারা দেশে ৩ হাজার ৭৮৫টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর আগের বছর ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪৩২ এবং ২০২৩ সালে ছিল ৩ হাজার ২৩টি।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে হত্যাসহ সব ধরনের সহিংসতা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তবে অপরাধ ও সমাজ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশ বাহিনী কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারার কারণে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা যাচ্ছে না।’
বিশ্লেষকদের মতে, এসব হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই সহিংসতার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনেও পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।