অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অন্তত ৬৫টি উন্নয়ন প্রকল্পে অস্বাভাবিকভাবে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি গণভোটের ফল সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে প্রশ্ন, নতুন সরকারেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রথা বহাল থাকা এবং কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফের খবর শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন পত্রিকায় গুরুত্ব পেয়েছে।
দৈনিক কালের কণ্ঠ–এর প্রধান শিরোনামে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছরের সময়ে ৬৫টি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও একনেকের বৈঠকের কার্যবিবরণী পর্যালোচনায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ওই সময়ে একনেকের ১৯টি বৈঠকে মোট ৮৭টি চলমান প্রকল্প সংশোধন করা হয়। এর মধ্যে সাতটি প্রকল্পে ব্যয় কমানো হলেও সাশ্রয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৯৫০ কোটি টাকা, যা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর আগের ব্যয়ের তুলনায় খুবই সামান্য। বিপরীতে ৬৫টি প্রকল্পে ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। আরও ১৫টি প্রকল্পে ব্যয় অপরিবর্তিত রেখে কাজ শেষের সময়সীমা বাড়ানো হয়।
৬৫টি প্রকল্পের প্রাথমিক মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনের পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকায়। ফলে গড়ে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে উন্নয়ন প্রকল্পে কঠোর নজরদারি ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ঘন ঘন প্রকল্প সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বৃদ্ধির ঘটনা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।