বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি-এর শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদসহ চারজনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানা-এর উপপরিদর্শক আরমান আলী তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
কারাগারে পাঠানো অন্য তিন আসামি হলেন একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী মো. রিয়াদুল হাওলাদার, মো. আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদার। তাদেরও বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে গত বছরের ২৬ জুলাই রাজধানীর গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা দাবির অভিযোগে আসামি রাজ্জাককে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিদের সঙ্গে ভুক্তভোগী নির্জন ও তার বন্ধুদের পূর্ব শত্রুতা ছিল। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির চতুর্থ তলার ৪১২ নম্বর কক্ষে সাক্ষাতের সময় আসামিরা তাকে তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাস ও কনভোকেশনে অংশগ্রহণের বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আনিসুর রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করতে গেলে আসামি রাজ্জাকের নির্দেশে রিয়াদুল ও সায়েম চেয়ার দিয়ে তাকে আঘাত করেন, এতে তিনি পিঠ ও বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে আসামি রাজ্জাক সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মুখমণ্ডলে আঘাত করেন, ফলে নাকের উপরিভাগ কেটে গিয়ে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত হন। পরে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। এ সময় তার বন্ধু ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এগিয়ে এলে আসামিরা তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাঁধন বাদী হয়ে রাজ্জাকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে গুলশান থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে।