বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ইমিগ্রেশন প্রসঙ্গ আসলেই একজনের কথা আসে।তিনি জাপানে বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রিয় মুখ জাফরী মাওলা। জাপান বাংলা প্রেস ডট কম এর পক্ষ থেকে তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন মাহবুবুর রহমান বাবু। সাক্ষাৎকারে উনি জীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।

জাপান বাংলা প্রেস ডট কম কার্যালয়ে জাফরী মাওলা
জাপান ল’ইয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পুলিশ কেস এর ইন্টারপ্রেটার, ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট, লেখক ও ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ জাফরি মাওলার জন্ম ১৯৬১ সালের পাকিস্তানের করাচিতে। পৈত্রিক নিবাস রংপুরের গাইবান্ধায়। ১৯৮৮ সালে তিনি জাপান আসেন। ১৯৯৬ সালে জাপানে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০০৪ সালে হ্যাপি এন্ডিং হয় সে বিবাহের।

১৯৯৭ সালে রিকন্ডিশন গাড়ির ব্যবসার সাথে যুক্ত হন। ২০১০ সাল থেকে জাপান ল’ইয়ার এসোসিয়েশনের পুলিশ কেসে ইন্টারপ্রেটার হিসেবে কাজ শুরু করেন।
জাপানি ভাষায় তার প্রকাশিত গ্রন্থ – দেশের প্রতি ভালোবাসা ও জাপানি উক্তি কমেন্ট।
বহুভাষাবিদ জাফরী মাওলা বাংলা, ইংরেজি, উর্দু , হিন্দি, জাপানিজ ও আরবি ছয়টি ভাষায় পারদর্শী।

বাংলাদেশে পারিবারিক পরিমণ্ডলে জাফরী মাওলা
জাপান পুলিশ যখন সন্দেহভাজন কাউকে আটক করে তখন জাপান ল’ইয়ার এসোসিয়েশন তার পক্ষে দোভাষী নিয়োগ করে। জাপান পুলিশ যখন সন্দেহভাজন কাউকে আটক করে (তখন তার অপরাধ প্রমাণিত হয়নি) তখন জাপান ল’ইয়ার এসোসিয়েশন তার পক্ষে মানবাধিকার ইস্যুতে বিনামূল্যে সরকারি খরচে এন্টারপ্রেটার (দোভাষী) নিয়োগ করে।

টোকিওতে জাফরী মাওলা
জাপানের ইমিগ্রেশনে কেউ গেলে সেখান থেকে বলা হয় তুমি চাইলে আমরা দোভাষী নিয়োগ করতে পারি। তখনই ডাক পরে জাফরী মাওলা। এভাবেই ধীরে ধীরে উনি ব্যাপক পরিচিত হয়ে ওঠেন বাঙালি কমিউনিটিতে। ২০১২ সাল থেকে জাফরী মাওলা ইমিগ্রেশনের কাজ শুরু করেন।

মাহবুবুর রহমান বাবু: জাপানে বাংলাদেশী কমিউনিটির ফোর্থ জেনারেশন (চতুর্থ প্রজন্ম) চলছে । জাপানের মূলধারায় পেশাগত দিকে বাংলাদেশীরা কোন কোন পেশায় নিয়োজিত আছে। জাপানে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে কোন ইমিগ্রেশন ল’ইয়ার নাই কেন ?
জাফরী মাওলা : সূর্যোদয়ের দেশ জাপান একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। দ্বীপরাষ্ট্রের আইন খুবই কঠিন হয়।বাংলাদেশী কমিউনিটিতে আইটি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষকতা ও কনসালটেন্সি পেশায় বিশেষজ্ঞ থাকলেও ইমিগ্রেশন ল’ইয়ার নেই।
মাহবুবুর রহমান বাবু: বর্তমানে জাপানে বাংলাদেশীদের সংখ্যা কত ? নেপালিদের সংখ্যা ২ লাখেরও উপর। বাংলাদেশের সংখ্যা এত কম কেন ?

জাফরী মাওলার সফলতা ও তার সকল কাজের প্রেরণা তার মমতাময়ী মা।
জাফরী মাওলা : বর্তমানে জাপানে বাংলাদেশীদের সংখ্যা ২২ হাজারের মতো। নেপালিরা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। জাপানও একটি বুদ্ধিস্ট কান্ট্রি। এ কারণে ধর্মীয় বিবেচনায় নেপালিদের জাপান ফেভার করে থাকে। তাছাড়া নেপালে একবার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পরে জাপান মানবিক কারণে অনেক নেপালিদের জাপানে মাইগ্রেন করতে দিয়েছে।
মাহবুবুর রহমান বাবু: বর্তমানে স্টুডেন্ট ভিসায় বাংলাদেশ থেকে অনেক ছাত্রছাত্রী আসছে। বাংলাদেশ থেকে আর কোন প্রক্রিয়ায় লোক আনা যায় ?
জাফরী মাওলা : স্টুডেন্ট ভিসা ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে টেকনিক্যাল ট্রেনিং ভিসা, ইঞ্জিনিয়ারিং ও কুক ভিসা ও স্কিল লেবার ভিসায় লোক আনা যায়।
তাছাড়া বর্তমানে বিজনেস ভিসা বা উদ্যোক্তা ভিসাতেও জাপানে আসার সুযোগ রয়েছে।
মাহবুবুর রহমান বাবু: জাপানে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ভাষা একটি বড় অন্তরায়। যারা কর্মসংস্থানের জন্য জাপান আসতে চায় তাদের ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কি ?
জাফরী মাওলা : জাপানে আসার বেসিক হচ্ছে ল্যাঙ্গুয়েজ। ১৯৮৮ সালেএকটি বই পড়েছিলাম ইংরেজি ‘How to get Success in Japan’।
সেখানে লেখা ছিল Japan is a Country of opportunity but if you are in hurry, please forget about this.

যারা কর্মসংস্থানের জন্য জাপান আসতে চায় তারা ভাষা শিখে আসলে ভালো করতে পারবে। জাপানের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি খাতের ভূমিকা অপরিসীম। জাপানে প্লেন ট্রেন সবই বেসরকারী খাতে চলে।
জাপান সরকার সরকারিভাবে শুধু পাইলট স্পোর্টসম্যান ও ইন্টারপ্রেটার (দোভাষী) নিয়োগ করে। এ ৩ সেক্টরে জাপানের জনবল সংকট ছিল।
পাইলট ও স্পোর্টসম্যান এর সংকট কাটলেও এন্টারপেটারের সংকট এখনো প্রবল। ইন্টারপ্রেটারের জাপানে সরকার নিয়োগ করে।