জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে ভারত। দেশটির সরকারের বার্ষিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার প্রায় ৪ দশমিক ১৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এই তালিকায় ভারতের আগে এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানি রয়েছে।
তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হবে ২০২৬ সালে, যখন সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের জিডিপির চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করা হবে। বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে ভারত জার্মানিকেও ছাড়িয়ে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে উন্নীত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের জিডিপি ৭ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। একইসঙ্গে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, সর্বশেষ অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় ভারতের প্রবৃদ্ধির চিত্রও বেশ ইতিবাচকভাবে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশে। এটি প্রথম প্রান্তিকের ৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আগের অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকের ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নীতিগত অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা শক্তিশালী থাকায় এই উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রপ্তানি খাতেও ভারতের অগ্রগতি স্পষ্ট। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যেখানে পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার, নভেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারে। প্রকৌশল পণ্য, ইলেকট্রনিকস, ওষুধ এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিই এই অগ্রগতির প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসও ভারতের অর্থনীতির পক্ষে ইতিবাচক। বিশ্বব্যাংক ২০২৬ সালে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। পাশাপাশি মুডিস, আইএমএফ, ওইসিডি, স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং ফিচ—সবগুলো সংস্থাই আগামী কয়েক বছরে ভারতের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করছে। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়াও ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ নির্ধারণ করেছে।
তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, অর্থনীতির সামগ্রিক আকার দ্রুত বাড়লেও ভারতে সামাজিক বৈষম্য, কর্মসংস্থান সংকট এবং কাঠামোগত দুর্বলতার মতো চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এসব সমস্যার সমাধান জরুরি বলে মত দিয়েছেন তারা।