সাম্প্রতিক :
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও এসএডিসিএস-এর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎ ও আলোচনা অনুষ্ঠিত পাঁচ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪০ কোটি ডলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প ঢাকার তিন স্থানে আজও অবরোধ কর্মসূচি বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ‘অন-অ্যারাইভাল ভিসা’ বন্ধ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ নাহিদের অফিস নয়, গুলিবর্ষণ হয়েছে আবাসন কোম্পানির কার্যালয়ে: পুলিশ লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার না হ‌ওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট কাল রাজধানীর তিন স্থানে অবরোধের ঘোষণা দিয়ে সায়েন্স ল্যাব ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে সরে যেতে পারে জাপান

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্মিতব্য বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বিএসইজেড) প্রকল্প মাঝপথে এসে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রকল্পটির বিদেশি অর্থায়নকারী সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ঋণ চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে।

গত ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাইকা ৩০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে জানায়, এই সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে তারা প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করে দিতে পারে। চিঠিতে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে বলা হয়, একাধিক বৈঠক ও আগের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও প্রকল্পটির সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি।

জাইকার চিঠিতে মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রকল্প এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণ। সংস্থাটির অভিযোগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘমেয়াদি অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাইকার ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী সামাজিক ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতা পূরণ করা বাধ্যতামূলক। এর আগেও গত বছরের আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর মাসে একই বিষয়ে একাধিকবার বেজাকে চিঠি পাঠিয়েছিল জাইকা। সর্বশেষ ডিসেম্বরে পাঠানো চিঠিতে অর্থায়ন বন্ধের কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মুঠোফোনে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ প্রদানে বিলম্বের অভিযোগ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার এক কর্মকর্তা জানান, জেলা প্রশাসকের ছাড়পত্র পাওয়ার পরই অর্থ ছাড় করা হয়। তার দাবি, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো অযথা দীর্ঘসূত্রতা নেই। তিনি বলেন, জমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা ও মামলা-মোকাদ্দমার নিষ্পত্তির পরই ভূমি অধিগ্রহণ আইনের ৮ ধারা জারি হয় এবং তখনই অর্থ ছাড় দেওয়া সম্ভব হয়। আগে অর্থ ছাড় করলে সুদের বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে একনেকে অনুমোদিত চার বছর মেয়াদি প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা, যার মধ্যে জাইকার ঋণ ছিল ২ হাজার ১২৭ কোটি টাকা এবং বাকি অর্থ সরকার দেবে বলে নির্ধারিত ছিল।

প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ৩০০টির বেশি জাপানি কোম্পানির জন্য শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। তবে ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ প্রথমে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। নির্ধারিত সময়েও কাজ শেষ না হওয়ায় বেজা আবারও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং সরকারি তহবিল থেকে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের সুপারিশ করেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com