অস্বাভাবিক ভোটার মাইগ্রেশন, সিইসি’র কাছে তথ্য চায় বিএনপি

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন নির্বাচনি আসনে অস্বাভাবিক ভোটার মাইগ্রেশন এবং একটি বিশেষ দলের পক্ষে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি। দলটি এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছে।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান।

ভোটার মাইগ্রেশন প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, গত এক থেকে দেড় বছরে কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক হারে নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যা স্বাভাবিক নয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো আসনেই দুই থেকে তিন হাজারের বেশি ভোটার স্থানান্তর হয়নি। তবে বিএনপি এই তথ্যে সন্তুষ্ট নয়। তাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে, অনেক জায়গায় একটি হোল্ডিং নম্বরে যেখানে পাঁচজন বসবাস করার কথা, সেখানে ২০ থেকে ৩০ জন ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি এই মাইগ্রেশনের পূর্ণাঙ্গ ও আসনভিত্তিক তথ্য প্রকাশের দাবি জানান।

আচরণবিধি লঙ্ঘন ও ধর্মীয় আবেগ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কিছু এলাকায় ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি প্রচার চালানো হচ্ছে যে কবরে ফেরেশতারা তিনটির বদলে চারটি প্রশ্ন করবেন এবং চতুর্থ প্রশ্ন হবে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়া হয়েছে কি না। নজরুল ইসলাম খান এ ধরনের প্রচারণাকে হাস্যকর, অনৈতিক ও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, মানুষের বিশ্বাস নিয়ে এভাবে খেলা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নির্বাচনি এলাকায় শান্তি রক্ষার নামে ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, শান্তি কমিটি শব্দটির সঙ্গে অতীতের তিক্ত স্মৃতি জড়িয়ে আছে। নির্বাচন কমিশন তাদের জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত তাদের নেই। পাশাপাশি নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনি এলাকার বাইরের নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকা ত্যাগের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনার দাবি জানায় বিএনপি।

নির্বাচন পরিচালনায় বিএনসিসি ক্যাডেটদের যুক্ত করার প্রস্তাবের বিরোধিতাও করে দলটি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংসদ নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর ও জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা সমীচীন নয়। এতে ক্যাডেটরা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিতর্কের মুখে পড়তে পারে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যাদের দায়িত্ব আইনে নির্ধারিত আছে, তাদেরই কাজে লাগানো উচিত। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানান তিনি।

পর্যবেক্ষকদের বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানায় বিএনপি। ৮১টি সংস্থার প্রায় ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষককে অনুমোদনের প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, অনেক অপরিচিত প্রতিষ্ঠানকেও বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যেসব সংস্থার বাস্তব সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদেরই এই দায়িত্ব দেওয়া উচিত, যাতে নির্বাচনি কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।

বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com